kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

ছয়ফুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী

রংপুর অফিস ও লালমনিরহাট প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছয়ফুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গতকাল লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তেলিপাড়ার ছয়ফুল ইসলামের হাতে একটি গরু তুলে দেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক। ছবি : কালের কণ্ঠ

ছয়ফুল ইসলাম। ৪৫ বছর বয়সী এ মানুষটি পেশায় কলু (স্থানীয় ভাষায় তেলি)। সারা দিন ঘানি থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় বের হওয়া সরিষা তেল বিক্রি করে যা পেতেন তাই দিয়ে কোনো রকমে পাঁচজনের সংসার চলত। তবে এই কলুর নিজের বলদ না থাকায় তিনি ও তাঁর স্ত্রীকে টানতে হতো ঘানি।

একটি বলদের অভাবে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের তেলিপাড়ার ছয়ফুল দম্পতির দিন কাটছিল চরম দুর্দশায়। বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার ‘মানুষ খালি হামার ছবি তুলি নিয়া যায়’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে কালের কণ্ঠ। এরপর যেন ভাগ্য বদলে যেতে শুরু করে ছয়ফুলের।

অনেকের মতো এই প্রতিবেদনে চোখ পড়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও। তাঁর পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছয়ফুলের হাতে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দামের একটি গরু তুলে দেওয়া হয়েছে। এ সময় সেখানে ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক টি এম মমিন, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল হাসান ও কালীগঞ্জের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আলম।

এর আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের সহধর্মিণী আফরোজা বেগমের পক্ষ থেকে ছয়ফুলের সন্তানদের লেখাপড়া ও ঘর মেরামতের জন্য নগদ এক লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়। এরপর বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের উদ্যোগে তাঁদের একটি গরু কিনে দেওয়া হয়েছে।

এর বাইরে পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদের পক্ষে ৬০ হাজার টাকার একটি গরু বৃহস্পতিবার দুপুরে ছয়ফুলদের বাড়িতে পৌঁছে দেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) আতিকুল ইসলাম, লালমনিরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) তাপস কুমার ও কালীগঞ্জ থানার ওসি আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন।

এদিকে নগদ টাকা এবং একাধিক গরু পেয়ে ছয়ফুল এখন বেশ উত্ফুল্ল। আনন্দাশ্রুতে সিক্ত হয়ে ওঠে স্বামী-স্ত্রীর চোখ-মুখ। সেই খুশি যেন তাঁর বাড়ি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো কাকিনা এলাকায়। তাঁদের আনন্দে শরিক হতে ছুটে আসে প্রতিবেশীরা। ‘মানুষ খালি ছবি তুলি নিয়া যায়, কায়ো কিছু দেয় না’—আগের এই আক্ষেপ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ছয়ফুল বলেন, ‘আমার ওই ধারণা ভুল ছিল। আমাকে নিয়ে খবর প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী এবং বসুন্ধরার মালিকের স্ত্রীসহ অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটা আমি যেন বিশ্বাসই করতে পারছি না।’ তাঁর স্ত্রী মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘আমাদের জন্য যারা সাহায্য পাঠিয়েছে আল্লাহ তাদের অনেক ভালো করবে। এত দিন খুব কষ্টে দিন কাটালেও এখন আর সেই কষ্ট থাকবে না।’

প্রসঙ্গত, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের তেলিপাড়ার ছয়ফুল ও মোর্শেদা দম্পতি এত দিন একটি গরুর অভাবে নিজেরাই ঘানি টেনে তেল বানিয়ে সংসার চালাতেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা