kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র

তিন কিশোরের প্রাণহানি কর্মকর্তাদের মারধরে!

যশোর অফিস   

১৫ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন কিশোরের প্রাণহানি কর্মকর্তাদের মারধরে!

সংঘর্ষে নয়, কর্মচারীদের মারধরে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত কিশোরদের অভিযোগ, কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দফায় দফায় মারধর করায় তিনজন প্রাণ হারিয়েছে। তবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, বন্দি কিশোরদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনা তদন্তে গতকাল শুক্রবার তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহসহ কেন্দ্রের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নির্যাতনে বন্দি নিবাসী তিন কিশোর নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়। নিহতরা হলো পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮), রাসেল ওরফে সুজন (১৮) ও নাঈম হোসেন (১৭)। ওই ঘটনায় আহত ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলো—জাবেদ, আরমান, হৃদয়, লিমন, শাকিব, ঈশান, পাভেল, শরিফুল, সাব্বির, হৃদয়-২, মাহিম, রাকিব, সাব্বির-২, নাঈম ও রূপক। যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে তাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল সকালে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সামনে নিবাসীদের উদ্বিগ্ন স্বজনরা ভিড় জমান। তাঁরা টিভির খবর দেখে ঘটনা জেনে কেন্দ্রে এসেছেন বলে জানান এবং ঘটনার জন্য কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চুয়াডাঙ্গার পাভেল বলে, ‘গত ৩ আগস্ট হেড গার্ড নূর ইসলাম তাঁর মাথার চুল কেটে দিতে বলেন। পরে কেটে দেব জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গালাগাল করতে থাকেন। একপর্যায়ে কয়েকজন কিশোর নূর ইসলামকে মারধর করে। ওই ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আমাদের অফিসে ডেকে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। একপর্যায়ে কেন্দ্রের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, প্রবেশন অফিসার মুফফিকসহ অন্য স্যারেরা মারধর শুরু করেন।’

চিকিৎসাধীন আরেক কিশোর নোয়াখালীর বন্দি জাবেদ বলে, ‘স্যারেরা অন্যদের সঙ্গে নিয়ে লোহার পাইপ ও বাটাম দিয়ে আমাদের মেরেছেন। অচেতন হয়ে গেলে কাউকে রুমের ভেতরে আবার কাউকে বাইরে গাছতলায় ফেলে আসেন। জ্ঞান ফিরলে আবারও মারধর করেছেন।’

নিহত পারভেজের বাবা খুলনার মহেশ্বরপাশার রোকা মিয়া ও নিহত রাসেলের ভাই বগুড়ার শেরপুরের ফরহাদ আলী এটিকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এদিকে কেন্দ্রের প্রবেশন অফিসার মুশফিক আহমেদ বলেন, ‘সম্প্রতি কেন্দ্রে বন্দি কিশোরদের দুই গ্রুপের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রডের আঘাতে ও মারধরে গুরুতর জখম হয় ১৪ কিশোর। পরে তাদের হাসপাতালে নিলে নাঈম, পারভেজ ও রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম নাহিদুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরাই এই ঘটনার মূল সাক্ষী। তাদের কথার সত্যতা ও যৌক্তিকতা আছে। তদন্তে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সবশেষে বলতে চাই, এই ঘটনা একপক্ষীয়।’

তদন্ত কমিটি গঠন : ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবুল লাইছকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যসচিব সামজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক অসিত কুমার সাহা এবং সদস্য জেলা পুলিশ সুপারের একজন প্রতিনিধি। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মামলা দায়ের : তিন কিশোরের প্রাণহানির ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহত পারভেজের বাবা রোকা মিয়া অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে গতকাল কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে রাতে তিন কিশোরের মরদেহ হাসপাতাল থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা