kalerkantho

শুক্রবার। ১৭ আশ্বিন ১৪২৭। ২ অক্টোবর ২০২০। ১৪ সফর ১৪৪২

জন্মভূমি আজ মৃত্যু উপত্যকা, জল্লাদের রঙ্গমঞ্চ : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিনা বিচারে মানুষ খুন-গুম কখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে যায় না। আমাদের সংবিধান এটাকে সমর্থন করে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য, ভিন্নমতকে দমন করার জন্য এই ধরনের গুম-খুন-অত্যাচার-নিপীড়ন-নির্যাতন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩ ধারা-২(২)(ক) এর অধীনে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে, সংবিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, গণতন্ত্রের বিপক্ষে গিয়ে স্বৈরাচারী পথে হেঁটে মানবতাবিরোধী একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাঁরা এই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তরার বাসা থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই সরকারের অধীনে এ দেশে প্রায় তিন হাজার মানুষ পুলিশ, র‌্যাব, ডিবির হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এদের বেশির ভাগই বিরোধী দলের নেতাকর্মী।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে এক লাখের ওপরে রাজনৈতিক মামলা হয়েছে এবং সেখানে আসামি করা হয়েছে ৩৫ লাখের ওপরে মানুষকে। এই চিত্র বলে দেয়, মহান স্বাধীনতার স্বদেশ প্রিয় জন্মভূমি আজ মৃত্যু উপত্যকা, জল্লাদের রঙ্গমঞ্চ। আমরা অবশ্যই সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব জানান, ২০২০ সালে জানুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ১৯৬ জন এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং অথবা কাস্টোডিয়াল ডেথের শিকার হয়েছে। ২০১৯ সালে ৩৮৮, ২০১৮ সালে ৪৬৬, ২০১৭ সালে ১৬২ ও ২০১৬ সালে কাস্টোডিয়াল ডেথের শিকার হয়েছে ১৯৫ জন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তাঁকে (অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা) পুলিশ হত্যা করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে সাহস পায় না। গর্বিত সেনা বাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজরের এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের জন্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা, সমগ্র জাতি যেভাবে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে তাতে সিনহার পরিবার সাহস পাচ্ছে, বিচার প্রার্থী হতে পারছে। আমরা সকল বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই এবং এ দেশের মাটিতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সেই বিচার হবে।’

তিনি বলেন, ‘সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর আইএসপিআর থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে ভবিষ্যতে আর এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করা হবে না। যদি তা-ই হয়, তাহলে আমরা বলতে চাই, ক্রসফায়ারে হত্যাকাণ্ড ঘটানো বা না ঘটানো পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ঠাণ্ডা মাথার সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা