kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

সাত দিন করে রিমান্ডে

আইএসের দৃষ্টি পাওয়াই লক্ষ্য ছিল জঙ্গিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স শেষ করে কফিশপে চাকরি নেন। পরে এই নাইমুজ্জামানই যোগ দেন নব্য জেএমবির সামরিক শাখায়। তাঁর মতো আরো কয়েকজন এই শাখায় যুক্ত হন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের (সিটিটিসি) একটি টিম। গত মঙ্গলবার অপারেশন এলিগ্যান্ট বাইট চালিয়ে সিলেটের মিরাবাজার, টুকেরবাজার, দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন স্থান থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। যার মধ্যে রয়েছেন শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান (২৬), সানাউল ইসলাম সাদি (২৮), রুবেল আহমেদ (২৮), আব্দুর রহিম জুয়েল (৩০) ও সায়েম মির্জা (২৪)। গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গতকাল বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি)  মো. মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘এরা কথিত আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ঈদুল আজহার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। এর অংশ হিসেবে তারা গত ২৪ জুলাই রাজধানীর পল্টনে পুলিশ চেকপোস্টের পাশে, গত ৩১ জুলাই নওগাঁ জেলার সাপাহার এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দিরে বোমা হামলা করে। গত ২৩ জুলাই সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে আরেকটি হামলার পরিকল্পনা নেয়। এর মধ্যে পল্টন ও সাপাহারে বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হয় তারা। কিন্তু সিলেটে পুলিশের কড়া নজরদারির কারণে ব্যর্থ হয়।’

আটকরা আরো জানান, নব্য জেএমবির শুরা সদস্য শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামানের নেতৃত্বে তাঁরা সিলেটের শাপলাবাগের একটি বাসায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণের আড়ালে সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন। আর শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান কফিশপে (বারিস্তা) কফি মেকার হিসেবে কাজ করেন। ২০১৯ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স করেন তিনি। ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। সামরিক শাখার প্রধান প্রশিক্ষক এবং সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে সিলেটের শাপলাবাগের বাসাটি ভাড়া নেন নাইমুজ্জামান। তাঁদের মধ্যে সানাউল ইসলাম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র। রুবেল আহমেদ সিলেটে টুকেরবাজারে সার, বীজ ও কীটনাশকের ব্যবসা করেন। আব্দুর রহিম জুয়েল রেন্ট-এ কারের ড্রাইভার। তাঁর গাড়ি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সায়েম মির্জা সিলেটের মদন মোহন কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র।

গত ২৪ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর পল্টন মডেল থানার পুরানা পল্টন এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে আইইডিতে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক টেপ, জিআই পাইপের কনটেইনার, সার্কিটের অংশ, তারের অংশবিশেষ, লোহার তৈরি বিয়ারিং ও বল, নাইন ভোল্ট ব্যাটারির অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে।

এদিকে নব্য জেএমবির এই পাঁচ সদস্যকে সাত দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিমের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে তাঁদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। পল্টন থানা এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাঁদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা