kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

বন্ধুকে বেঁধে ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্ধুকে বেঁধে ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানে (শালবন) বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে এক কলেজছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ সময় ছাত্রীর বন্ধুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার বিকেলের এই ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এসএসসি পাস করা এক ছাত্রীকে অপহরণের পর সাড়ে চার মাস জিম্মি রেখে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার প্রধান আসামি রেজাউল করিম (৪৮) গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত সোমবার রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার এবং ছাত্রীটিকে উদ্ধার করা হয়। বাগেরহাটের শরণখোলায় শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একই রাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক যুবক।

নবাবগঞ্জে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার শগুনখোলা গ্রামের শরিয়ত উল্লাহর ছেলে শাহিনুর (৩০), ইসমাঈল হোসেনের ছেলে আজিম (৩১), ফতেপুর মাড়ার গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সাজেদুল ইসলাম সাজু (২১) এবং আবু তাহেরের ছেলে শাহারুল ইসলাম (২০)। ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর (১৮) বাড়ি বিরামপুর উপজেলায়। এই ঘটনায় ছাত্রীর বন্ধু সোমবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া চার যুবকসহ পাঁচজনের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, ছিনতাই ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজে ভুক্তভোগী ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। সন্ধ্যায় তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন দিনাজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার বিকেলে কলেজছাত্রী তাঁর বন্ধুকে নিয়ে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানের ভেতরে দৃষ্টিনন্দন ফজিলাতুন নেছা কাঠের সেতুতে ঘুরতে যান। তখন স্থানীয় কয়েক যুবক তাঁদের গতিবিধি লক্ষ করছিলেন। ছাত্রী ও তাঁর বন্ধু সেতুর পূর্ব অংশে গেলে বন্ধুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটান এবং তাঁর টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন ওই যুবকরা। এরপর তাঁরা ছাত্রীটিকে বনের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ধর্ষণে অভিযুক্ত শাহিনুর ছাত্রীটিকে বনের পাশে নবাবগঞ্জ-বিরামপুর সড়কে নিয়ে ছেড়ে দেন। আর এদিকে অভিযুক্তরা বন্ধুটিকে বলেন, আরো টাকা না দিলে মেয়েটিকে ছাড়া হবে না। এ সময় টাকা আনার কথা বলে বন্ধুটি গিয়ে ৯৯৯-এ কল দেন। নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বন থেকে দুই অভিযুক্তকে আটক করে। পরে তাঁদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরো দুই যুবককে আটক করা হয়।

পলাতক আসামি রেজওয়ানকে খুঁজছে পুলিশ।

স্থানীয় লোকজন জানায়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকার দেশের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করলেও শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানে মানুষের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। আঁকাবাঁকা ৯০০ মিটার লম্বা কাঠের সেতুটিসহ এই পর্যটনকেন্দ্রে সরকারিভাবে কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার চৌহান জানান, বেশ কিছুদিন থেকে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানে আসা দর্শনার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই চক্রের কয়েকজন গ্রেপ্তার হলো। তাঁদের কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান রক্ষা কমিটির সভাপতি মো. মাহাবুর রহমান বলেন, উদ্যানটি বন্ধ থাকার পরও কিছু দর্শনার্থী কাঠের সেতুটি দেখতে আসে। সরকারিভাবে পর্যটকদের দেখভাল করার কোনো লোক না থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে। এই ঘটনায় জাতীয় উদ্যান রক্ষা কমিটি দুঃখ প্রকাশ করছে।

ছাত্রী উদ্ধার ও ধর্ষণচেষ্টা

বগুড়ার ধুনট উপজেলার ঘটনায় কালিয়াকৈরের রূপনগর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া রেজাউল করিম ধুনটের শেহলিয়াবাড়ী গ্রামের রহিম বক্সের ছেলে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, দুই সন্তানের জনক রেজাউল বিশ্বহরিগাছা গ্রামে তাঁর বন্ধু সুজন মিয়ার মাধ্যমে ছাত্রীটিকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তাতে সাড়া দেয়নি ছাত্রী। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৬ মার্চ বিকেলে সুজনের সহযোগিতায় রেজাউল মেয়েটিকে তার বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। এই ঘটনায় মেয়েটির বাবা ২৭ মার্চ ধুনট থানায় মামলা করেন। সুজন মিয়াও এই মামলার আসামি। ধুনট থানার অফিসার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, গতকাল ভুক্তভোগীকে জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য বগুড়া আদালতে এবং রেজাউল করিমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নে সোমবার সন্ধ্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম রফিকুল শেখ (৩০)। তিনি মোরেলগঞ্জ উপজেলার পিসি বারৈখালী গ্রামের মৃত গফুর শেখের ছেলে। পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় শিশুটি (৯) ধানসাগরের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে রফিকের শ্বশুরবাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন রফিক তাকে জোর করে ফাঁকা ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ঘটনাটি রফিকের শাশুড়ি দেখে ফেলেন।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন দিনাজপুর, বিরামপুর ও ধুনট প্রতিনিধি]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা