kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

সানেমের জরিপ

করোনা-পরবর্তী প্রান্তিকে ব্যবসায় আস্থা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা-পরবর্তী প্রান্তিকে ব্যবসায় আস্থা বাড়ছে

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে ব্যবসায় ক্রমেই আস্থা বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। দেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপর পরিচালিত এই জরিপে উৎপাদন ও সেবা খাতের ৩০৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান গতকাল জরিপ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। অনলাইন ব্যবস্থায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনিশ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান ছাড়াও ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদরা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসের তুলনায় পরবর্তী প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫১ শতাংশই এ বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ব্যবসায় আস্থা বাড়ার ক্ষেত্রে করোনার কারণে বিদ্যমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে তারা এখনো বড় বাধা হিসেবে দেখছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসায় টিকে থাকার লক্ষ্যে সরকার এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও দুই-তৃতীয়াংশই এই সুবিধার বাইরে। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া এবং ব্যাংকিং জটিলতাকে অন্যতম সমস্যা হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তারা। কেবল ৩৪ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এই সুবিধার আওতায় ঋণ নিতে পেরেছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. মসিউর রহমান বলেন, যাঁদের উদ্দেশ্যে প্রণোদনা সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কাছে তা যাচ্ছে কি না সে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের দেখা দরকার।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ পেয়েছেন এমন ৮৭ জনই জানিয়েছেন, ব্যবসায়ের জন্য প্রণোদনার অর্থ অত্যন্ত কার্যকর। কিন্তু বেশির ভাগই এই প্রণোদনার অর্থ নিতে পারছে না। অবশ্য ১২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ব্যাংকের তরফে কোনো জটিলতা দেখছেন না।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে বিদ্যমান নীতিমালায় সংস্কার আনার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, যাঁরা এই সুবিধার দাবিদার, তাঁরা সুবিধাটা পাচ্ছেন না। এ ছাড়া ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোক্তাদের যে অংশ এই ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে আছে, তাদের বিষয়টি দেখা দরকার।

ব্যবসা ও বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, করোনার এই সময়ও আমরা শিক্ষা না পেলে আর কবে হবে। সরকার চলতি অর্থবছরে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে করোনা পরিস্থিতির ওপর রপ্তানি নির্ভর করবে।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম, এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর, পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম মাশরুর রিয়াজ, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা