kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৬ সফর ১৪৪২

ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু সরকারি চাকুরেদের

সজীব হোম রায়   

৮ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু সরকারি চাকুরেদের

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যেসব সরকারি চাকরিজীবী মারা গেছেন তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তিন ধাপে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত করা তালিকার লোকজনকেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দফায় দুজন কর্মকর্তার পরিবারকে ৫০ লাখ করে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণের দাবিসংক্রান্ত ১২-১৫টি নথি অর্থ মন্ত্রণালয়ে এসেছে। প্রথম ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে প্রয়াত প্রতিরক্ষাসচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী ও সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক মো. মঈন উদ্দিনের পরিবার। অর্থ বিভাগ গত ২৭ জুলাই উভয় পরিবারের নামে ৫০ লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকা মঞ্জুরি দিতে দুটি আলাদা চিঠি পাঠিয়েছে একই বিভাগেরই প্রধান হিসাব কর্মকর্তার কাছে।

অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ স্বাক্ষরিত উভয় চিঠিতে বলা হয়েছে, মৃত দুই কর্মকর্তার স্ত্রীদের কাছে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করবেন অর্থ বিভাগের ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (ডিডিও)।

এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, যেসব সরকারি চাকরিজীবী সরাসরি করোনা মোকাবেলায় কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন আপাতত তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। পরের ধাপে যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ‘স্বাস্থ্যঝুঁকি বাবদ ক্ষতিপূরণের জন্য বিশেষ অনুদান’ খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সেখান থেকে এ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ওই দুটি ছাড়াও আরো পাঁচ-সাতটি মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ সম্পর্কিত নথি এসেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। চূড়ান্ত হলে শিগগিরই অর্থ ছাড় করা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো হাসপাতাল থেকে করোনা সনদ নিয়েছে তার ওপর মন্ত্রণালয় গুরুত্ব দিচ্ছে সবচেয়ে বেশি। প্রতিষ্ঠিত ও সরকারি হাসপাতাল ছাড়া অন্য হাসপাতালের সনদ বাতিল বলে গণ্য করা হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত বা মৃত সরকারি চাকরিজীবীদের সনদ তিন ধাপে যাচাই করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে যাচাই-বাছাই করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। দ্বিতীয় ধাপে মন্ত্রণালয় বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করেন বা করতেন সেই মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে নথি পাঠাচ্ছে। তৃতীয় ধাপে অর্থ মন্ত্রণালয় আবারও সেটি যাচাই-বাছাই করছে। যাচাই-বাছাইয়ে ভুয়া আবেদন ধরা পড়লে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগে ফেরত পাঠাবে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে ভুয়া আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তির সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, সরাসরি করোনা মোকাবেলার কাজে জড়িত হয়ে কোনো সরকারি চাকুরে মৃত্যুবরণ করলে গ্রেডভেদে ২৫-৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। আর আক্রান্ত হলে গ্রেডভেদে পাবেন ৫-১০ লাখ টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা