kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

হাওরে ট্রলারডুবি

মাঝি অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিলেন

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

৮ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেত্রকোনার মদন উপজেলার উচিতপুর ট্রলার ঘাটটি কয়েক বছর ধরে পর্যটন এলাকা হিসেবে দেশব্যাপী বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। বিভিন্ন উৎসবের সময় ছাড়াও বর্ষাকালজুড়েই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বা প্রায় দিনেই মানুষের পদচারণে মুখর হয়ে থাকে ট্রলার ঘাটটি। ফলে আরো বেশি মুনাফার আশায় এখানকার নৌকা ব্যবসায়ী ও মাঝিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাইয়ের প্রতিযোগিতা। এ কারণে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। স্থানীয় লোকজন বলছে, এর ধারাবাহিকতায়ই গত বুধবার ট্রলারডুবিতে ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। ঘটনার পর থেকে ট্রলারটি পুলিশের হেফাজতে থাকলেও নৌকার মালিক, চালকসহ অন্যরা রয়েছে পলাতক।

স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, গত বুধবার ময়মনসিংহসহ নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ৪৮ জন পর্যটক উচিতপুর ট্রলার ঘাট থেকে লাহুত মিয়ার যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে ওঠে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী তোলেন নৌকার মাঝি ও লাহুত মিয়ার ভাতিজা খাইরুল। উত্তাল হাওরের প্রচণ্ড ঢেউয়ের মধ্যেই নৌকাটি ঘাট থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। যাত্রীদের বেশির ভাগই ট্রলারটির ছাদে উঠে আনন্দ করতে থাকে। ট্রলারটি রাজালীকান্দা নামক স্থানে পৌঁছতেই মাঝি ঢেউয়ের তাণ্ডবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একটু পর কাত হয়ে উল্টে ডুবে যায় ট্রলার। এ সময় ৩০ জন সাঁতরে পারে উঠতে পারলেও বাকিরা তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। আরেকজনের লাশ পরদিন ভেসে ওঠে।

ফায়ার স্টেশনের অফিসার আহমেদুল কবির জানিয়েছেন, ৩০ জন যাত্রীর জায়গায় প্রায় ৫০ জন বহন করায় এমন ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে অন্যান্য নৌকার মাঝি ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেও একই তথ্য জানা গেছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, অনেক দিন ধরেই এখানে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের ঘটনা ঘটে চলছে। কিন্তু এত দিন ধরে এসব বিষয় নিয়ে প্রশাসনের কোনো নজরদারি ছিল না। এ ছাড়া ঘটনার পর থেকে নৌকার মালিক ও মাঝির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রশাসনও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এ ব্যাপারে মদন থানার ওসি রমিজুল হক জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অপমৃত্যু মামলা হয়নি। তবে নৌকার মালিক ও মাঝির নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। যে বা যারাই দোষী হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা