kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

ইলিশে হাসি ক্রেতাদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইলিশে হাসি ক্রেতাদের

নদ-নদী ও খাল-বিলে বন্যা ও বর্ষার পানি বেশি থাকায় বাজারে দেশি মাছের সরবরাহ কম। এর মধ্যে বিভিন্ন নদী ও সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ। বাজারে সরবরাহ বাড়ায় এই রুপালি মাছের দাম এখন নাগালের মধ্যে। তাই ‘কম দামে’ ইলিশ কেনার সুযোগ লুফে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

গতকাল চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছ ঘাটে তিন হাজার মণ ইলিশ ওঠে। মূলত দক্ষিণের সাগর ও সাগর মোহনা এবং চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনায় এসব মাছ ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গত ৩ আগস্ট থেকে পূর্ণিমা শুরু হয়েছে। এখন ভরা পূর্ণিমা চলছে। ফলে সাগরের পানি যেমন ফুঁসে উঠেছে, তেমনি উজানের পানিও দক্ষিণের সাগরে নামছে। এমন অবস্থায় স্রোতের বিপরীতে ইলিশের ঝাঁক সাগর ছেড়ে মোহনার দিকে ছুটে আসছে। ফলে জাল ফেলা মাত্র ধরা দিচ্ছে নানা আকারের ইলিশ।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির পরিচালক সুমন খান জানান, পাইকারি বাজারে আকারভেদে প্রতি মণ ইলিশ ১৪ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব ইলিশের চালান রাজধানী ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিশিষ্ট মৎস্যবিজ্ঞানী, ইলিশ বিশেষজ্ঞ ড. আনিছুর রহমান জানান, গত বছরের চেয়ে এবার আরো বেশি ইলিশ আহরণ করতে পারবেন জেলেরা। এবার সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ পাওয়া যেতে পারে।

এদিকে সাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সেখানে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে। বঙ্গোপসাগর থেকে ফিশিং ট্রলারে ইলিশ নিয়ে জেলেরা প্রতিদিন সকাল-বিকাল আসছেন চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটে। জেলে-ব্যাপারী আর পাইকারি ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর হয়ে আছে ঘাট। তবে চট্টগ্রামের বাজার ইলিশে সয়লাব হলেও দাম এখনো কিছুটা বেশি। দিন কয়েকের মধ্যে সেখানে দাম কমে আসবে বলে জানাচ্ছেন আড়তদাররা।

ফিশারিঘাটের সোনালি যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আলী বলেন, ‘ফিশারিঘাটে এখন ৫০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণ বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা দরে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২০ হাজার টাকা, দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশের প্রতি কেজি দাম পড়ছে ৭০০ টাকার বেশি।’

গত বর্ষায় ভোলার চরফ্যাশনে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশের আকাল দেখা দেয়। তবে পরিস্থিতি ভিন্ন; বর্ষার শুরু থেকেই নদীগুলোতে ইলিশ ধরা পড়ছে প্রচুর পরিমাণে। আসলামপুর বেতুয়া মৎস্য ব্যবসায়ী জসিম হাওলাদার বলছিলেন, ‘নুরনবী মাঝি এক খেপে প্রায় ১০ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করছে। এ ছাড়া জাহাঙ্গীর মাঝি, খায়ের মাঝিসহ অনেকের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। তবে নদীতে নয়, সাগরে প্রচুর ইলিশ রয়েছে।’ ক্রেতা ইউনুছ জানালেন, ইলিশের দাম সাধ্যের মধ্যে আছে।

অবশ্য ইলিশের জোগান নিয়ে বিপরীত চিত্রও আছে। বরিশালে ইলিশের সবচেয়ে বড় মোকাম নগরের পোর্ট রোড। সেই বাজারে এখনো এই রুপালি মাছের আমদানি কম, এর পরও দাম আছে নাগালের মধ্যে। তবে আগের তুলনায় চলতি সপ্তাহে দাম কিছুটা বেড়েছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা (হিলশা) বিমল চন্দ্র দাস জানান, পূর্ণিমার পর আরো বেশি ইলিশ ধরা পড়বে, ফলে সরবরাহও বাড়বে। আর সরবরাহ বাড়লে মাছের দর কমতে শুরু করবে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, চট্টগ্রাম; বরিশাল অফিস, চাঁদপুর ও চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা