kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

থমকে আছে বিচারকাজ

করোনা পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ

এম বদি-উজ-জামান   

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



থমকে আছে বিচারকাজ

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সাধুয়া গ্রামের মো. খলিলুর রহমানসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয় গত ২৬ জানুয়ারি। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যেকোনো দিন রায় ঘোষণার জন্য এটিকে অপেক্ষমাণ রাখেন। মামলাটির আর অগ্রগতি হয়নি।

শুধু এই মামলা নয়, একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ৩৪টি মামলার বিচারকাজ চার মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ। শুধু মামলায় তারিখ পরিবর্তনের কাজ চলছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি শুরুর পর ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ বন্ধ হয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মফিজ উদ্দিন মফাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে গত ২০ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ করা যায়নি। একইভাবে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার জোনাব আলী ফকিরসহ চারজনের বিরুদ্ধে গত ১২ মার্চ অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মামলা দুটির কারাবন্দি আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা যায়নি। ফলে সাক্ষ্যগ্রহণও শুরু হয়নি।

ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালে স্বাভাবিক বা নিয়মিত বিচারকাজ বন্ধ রয়েছে। আসামি মফিজ উদ্দিন মফার আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ানও একই কথা বলেন।

তবে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার সাঈদ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বিচারকাজ একেবারে থেমে নেই। সীমিত আকারে বিচার কার্যক্রম চলছে। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে আদেশ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, এখানকার বিচারের পদ্ধতি সাধারণ নয়। এখানে বিচারকাজ পরিচালিত হতে হলে বন্দি থাকা আসামিদের হাজির করতে হয়। করোনা পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হচ্ছে না।

২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে ২৬ মার্চ আদালত বন্ধ হওয়ার আগের দিন অর্থাৎ ২৫ মার্চ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা ছিল ৩৪। গত চার মাসে মামলার সংখ্যা বাড়েনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্যান্য আদালতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অর্থাৎ ভার্চুয়াল আদালত চললেও ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ বন্ধ রয়েছে। প্রথম দিকে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে বন্ধ থাকে। পরে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তায় দায়িত্বে থাকা পুলিশের ৭২ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হন। ফলে ব্যারাক লকডাউন করে দেওয়া হয়। যদিও পরে নতুন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পর ১ জুন লকডাউন তুলে নেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা