kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ পেল সুনামগঞ্জের নিঃস্ব বানভাসিরা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত সুমন মিয়া। টানা তিনবারের বন্যায় তাঁর মাটির ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনবারই তাঁকে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ আশ্রয়কেন্দে  উঠতে হয়েছে। বসতঘর হারিয়ে তিনি এখন স্ত্রী, বৃদ্ধা মা ও সন্তানকে নিয়ে ওই কেন্দ্রে আছেন। গতকাল বিকেলে সেখানে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া গেল সুমনকে। জাগিয়ে তুলে তাঁর হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ তুলে দিলে বিস্ময়ে চোখ ছানাবড়া হয়ে ওঠে তাঁর। চাল, ময়দা, তেল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বস্তা পেয়ে ওপরে হাত তুলে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

সুমন মিয়ার মতো জন্মান্ধ ভিক্ষুক কুতুব উদ্দিন, হুইলচেয়ারে বাঁধা দুই পা ও এক হাতবিহীন মোল্লাপাড়ার আব্দুর রশিদ, কোরবাননগরের ভিক্ষুক মনোয়ারা বেগমসহ অসহায় ব্যক্তিরা ত্রাণ পেয়ে নানাভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে গতকাল দিনভর হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অন্তত আড়াই শ নিঃস্ব পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

এই কার্যক্রমে অংশ নেন বসুন্ধরা গ্রুপের সিলেট বিভাগীয় সেলস ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান, কালের কণ্ঠ’র সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি শামস শামীম, বসুন্ধরা গ্রুপের সুনামগঞ্জের সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট মিহির তালুকদার প্রমুখ। তাঁরা সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর ও ছাতক উপজেলার বন্যাশ্রয় কেন্দ্র, বিভিন্ন হাট-বাজার ও হাওরাঞ্চলের দুর্গত এলাকায় হতদরিদ্রদের ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমি হুইলচেয়ারো বইয়া গাঁও-গেরামে গিয়া মাগামাগি করি। এখন করোনার লাগি কেউ ভিক্ষা দ্যায় না। আইজ ট্রাফিক পয়েন্টো আক্তা গাড়ি খাড়াইয়া তিনজন লোক আমার আতো ত্রাণের বস্তা ধরাইয়া দিছইন। চাউল, তেল, ডাল, ময়দাসহ আরো বিভিন্ন জিনিস ফাইয়া আমি খুশি।’

জন্মান্ধ কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘তিনবারের বইন্যায় আমার মাটির ঘর নষ্ট অইগেছে। আমি অখন মসজিদর সামনো বইয়া ভিক্ষা খরি। আইজ আক্তা তারা আইয়া আমারে এক বস্তা ত্রাণ দিছইন।’

বসুন্ধরা গ্রুপের সিলেটের বিভাগীয় সেলস ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেশ ও মানুষের কল্যাণে সব সময়ই কাজ করছে বসুন্ধরা। করোনায় কর্মহীন মানুষ থেকে শুরু করে বন্যার্ত অসহায় মানুষ এবং হাওরাঞ্চলের বানভাসি মানুষদের দুয়ারে এসে ত্রাণ দিয়েছি আমরা। নিজের ঘরে বসে ত্রাণ পেয়ে অনেকেই অশ্রুভেজা চোখে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা