kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পরিবারের দাবি

বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে সিফাতকে

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘পুলিশ তাদের দোষ ধামাচাপা দিতে আমার নাতিকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। আমিসহ দেশবাসী বিশ্বাস করে, পুলিশের নাটকের বলির পাঁঠা হলো আমার নাতি।’

সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের নিহত হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতের নানা এনায়েত কবির হাওলাদার গত মঙ্গলবার রাতে এসব কথা বলেন।

বরগুনার বামনা উপজেলায় নিজ বাসবভনে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে সাবেক এই ইউপি চেয়ারম্যান দাবি করেন, টেকনাফ থানার পুলিশ নিজেরা বাঁচতে তাঁর নাতিসহ আরো দুই শিক্ষার্থীকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সিফাতের স্বপ্ন পুলিশের সাজানো নাটকে আজ ধ্বংস হতে চলেছে। সিফাত জীবনে একটি সিগারেটও খায়নি, অথচ তাকে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।’

একটি তথ্যচিত্রের কাজে সিনহা রাশেদের সঙ্গে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন সিফাতসহ শিপ্রা রানি দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নূর। তাঁরা তিনজনই বেসরকারি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম ও মিডিয়া বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী।

গত ৩১ আগস্ট কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা রাশেদ। সে সময় তাঁর সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন সিফাত। তাঁর বাড়ি বামনা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামে। বাবার নাম নুর মোস্তফা, মা লন্ডনপ্রবাসী মোসা. শিলা খান।

সিফাতের ফটোগ্রাফি ও অভিনয়ের শখের কথা জানিয়ে এনায়েত কবির হাওলাদার বলেন, ‘সিফাত টেকনাফে যাওয়ার সময় সিনহা রাশেদের তথ্যচিত্র নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছে। ও তখন বলে, তোমার নাতিকে একদিন দেশ চিনবে। আজ আমার নাতিকে সত্যি দেশ চিনল, তবে পুলিশের সাজানো নাটকের আসামি হিসেবে।’ তিনি সিফাতের মুক্তি দাবি করেন।

গতকাল বুধবার সিফাতের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করতে চাইলে পুলিশের বাধায় তা সফল হয়নি বলে অভিযোগ করে বামনা সরকারি সারওয়ারজান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষার্থীরা বলে, তারা তাদের বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীর মুক্তি চায়। সিফাত নির্দোষ।

মানববন্ধন সফল না হওয়ার ব্যাপারে বামনা থানার ওসি ইলিয়াস আলী তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাবেক মেজর সিনহা রাশেদ টেকনাফে নিহত হয়েছেন। সেখানেই মামলা হয়েছে; তদন্ত চলমান। এর বেশি কিছু আমার জানা নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা