kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নিম্ন আদালতে স্বাভাবিক বিচারকাজ শুরু

সুপ্রিম কোর্ট খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে চার মাস দশ দিন পর গতকাল বুধবার থেকে দেশের সব অধস্তন আদালতে স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতে আদালতে স্বাভাবিক বিচারকার্য শুরু হয় গতকাল সকালে। নিয়মিত আদালত খোলার প্রথম দিন হওয়ায় বিচারপ্রার্থীর ভিড় ছিল না। আইনজীবীদেরও উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। ঢাকার আদালতে বিচারক, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মাস্ক পরা অবস্থায় দেখা গেলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার শর্ত মানতে দেখা যায়নি আইনজীবীদের। একই সঙ্গে একাধিক আইনজীবীকে একই আদালতকক্ষে ঢুকতে ও আদালতকক্ষ থেকে বের হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে অনেক দিন পর আদালত খোলার পর ঢাকা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী চেম্বারে সামাজিক দূরত্ব মেনে চায়ের আড্ডায় বসতে দেখা গেছে আইনজীবীদের।

এ বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমতির সভাপতি ইকবাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একদিকে ঈদুল আজহার ছুটির রেশ এখনো কাটেনি। এ কারণে আইনজীবীদের উপস্থিতি কম ছিল।’ তবে সামাজিক দূরত্ব না মানার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক আইনজীবী বিষয়টি জানেন না। এ কারণে প্রথম দিন এ রকম অবস্থা হয়েছে। আইনজীবীরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেন সে জন্য বারের (আইনজীবী সমিতি) পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, দু-এক দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘সাধারণ আইনজীবীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সব অধস্তন আদালত খুলে দেওয়া হয়েছে। তাই এই আইনজীবীদেরই এখন নৈতিক দায়িত্ব সব নির্দেশনা মেনে চলা। আশা করি, আইনজীবী বন্ধুরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন।’

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট নিয়মিত খোলা হবে কি না এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বসছে ফুলকোর্ট সভা। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ) বিচারপতিদের নিয়ে এই ফুলকোর্ট সভা বসছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে শারীরিক উপস্থিতিতে নিয়মিত আদালত খুলে দিতে প্রধান বিচারপতিকে দুই দফা চিঠি দেওয়ার পর এই সভা ডাকা হয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে গত ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশের সব নিয়মিত আদালত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় জরুরি মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য গত ১১ মে থেকে ভার্চুয়াল আদালত কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু নিয়মিত আদালত খুলে দেওয়ার জন্য আইনজীবীরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ জন্য আইনজীবীরা আন্দোলনেও নামেন। এই পরিস্থিতিতে সারা দেশে অধস্তন আদালত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা