kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

আলোচনাসভায় শেখ হাসিনা

কামাল দেশকে অনেক কিছু দিতে পারত

বিশেষ প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কামাল দেশকে অনেক কিছু দিতে পারত

শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি ‘শহীদ শেখ কামাল : আলোমুখী এক প্রাণ’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। ছবি : পিএমও

মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের বহুমুখী প্রতিভা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁর বড় বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আজকে কামাল যদি বেঁচে থাকত, দেশ ও সমাজকে অনেক কিছু দিতে পারত। কারণ তাঁর যে বহুমুখী প্রতিভা, সেই প্রতিভা বিকশিত হয়ে দেশের সকল অঙ্গনে অবদান রাখতে পারত এবং সে রেখেও গেছে সে চিহ্ন।’

গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গণভবন থেকে আলোচনাসভায় যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর (কামাল) নতুন নতুন চিন্তা-ভাবনা ছিল। ছোটবেলা থেকেই কামাল শুধু খেলার মধ্যে ছিল তা না, সাংসারিক কাজেও আমার মাকে সব রকম সহযোগিতা করত। ওই ছোট্ট বয়স থেকেই সে খুব দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করত।’

শেখ কামালের বহুমুখী প্রতিভার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কামাল আমার চেয়ে দুই বছরের ছোট। কিন্তু তার জ্ঞান-বুদ্ধি সব কিছুতে একটা পরিমিতিবোধ ছিল। তার মেধা বহুমুখী ছিল। একদিকে যেমন ছিল ক্রীড়া সংগঠক, সাংস্কৃতিক জগতেও তার বহুমুখী প্রতিভা রয়েছে। স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী সে সৃষ্টি করেছে। ঢাকা থিয়েটার যখন হয় সেখানেও তার অবদান ছিল। সে নিজে অভিনয় করত, গান গাইত, সেতার বাজাত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ধানমণ্ডি এলাকায় কোনো রকম খেলাধুলার ব্যবস্থা ছিল না। সে উদ্যোগ নেয় এবং ওখানকার সবাইকে নিয়ে আবাহনী গড়ে তোলে। মুক্তিযুদ্ধের পরেও এই আবাহনীকে আরো শক্তিশালী করে। একটা মানুষের মাঝে এই যে বহুমুখী প্রতিভা এটা সত্যিই বিরল ছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ভূমিকাও অপরিসীম। ছয় দফা দেবার পর থেকে যে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হয়; তারপর থেকে যেভাবে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। প্রতিটি সংগ্রামে কামালের অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। ঢাকা কলেজে পড়ার সময় সে মিছিল নিয়ে চলে আসত বটতলা। সেই সঙ্গে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখে গেছে। এমনকি সে ২৫ মার্চে রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়।’

আবাহনী ক্রীড়া চক্র এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে কামাল আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু আজকে তার সৃষ্টি আবাহনী ক্লাব এখনো আছে। স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠীর অনেকেই মারা গেছে, নতুনভাবে আবার স্পন্দন গড়ে তোলা হয়েছে। ফিরোজ শাহীর ছেলেসহ যারা উদ্যোগ নিয়েছে, তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’

শৈশবের কথা স্মৃতিচারণা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে কামাল নেই। আমরা পিঠাপিঠি ভাই-বোন ছিলাম। একসঙ্গে উঠাবসা, একসঙ্গে খেলাধুলা, চলাফেরা, ঝগড়াঝাঁটি সবই আমরা করতাম। একসঙ্গে সাইকেল চালানো, যেহেতু আমরা দুই ভাই-বোন কাছাকাছি বয়সের। পুতুল খেলায় যেমন আমার সঙ্গে ও থাকত। ছোটবেলার বাকি সব খেলায় আমিও ওর সঙ্গেই খেলতাম।’

১৫ আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি যে সব একদিনে এভাবে হারাব, এটা কখনোই চিন্তা করতে পারিনি, কল্পনাও করতে পারিনি।’

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ভার্চুয়াল এ আলোচনাসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। অনুষ্ঠানে ‘শহীদ শেখ কামাল : আলোমুখী এক প্রাণ’ শীর্ষক স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা