kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

দিয়ার শোকে আর বাস চালান না বাবা

রাজীবের জন্য দোয়া করেই দিন কাটে মায়ের

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিয়ার শোকে আর বাস চালান না বাবা

‘মেয়েটার মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী আমার পরিবারের জন্য যা করেছেন তা কখনো ভোলার নয়। পাশে রয়েছে দেশবাসী। কিন্তু ঘটনার পর থেকে দেশব্যাপী আন্দোলনের কারণে শ্রমিক ইউনিয়নের অনেকেই আমাকে শত্রু ভাবতে শুরু করে। এর রেশ এখনো রয়েছে। এখনো তারা হুমকি-ধমকি দেয়।’ দুই বছর আগে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় নিহত শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মীমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম ফকির বলছিলেন এ কথা।

জাহাঙ্গীর আলম পেশায় নিজেও বাসচালক ছিলেন। আদরের মেয়ের মৃত্যুর পর সেই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার মহাখালীতে ভাড়া বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন চা-বিস্কুট বিক্রি করি। কিন্তু পরিবহন শ্রমিকরা আমার এই দোকানও বন্ধ করার পাঁয়তারা করছে।’

তিনি বলেন, এখনো ঢাকা জেলা বাস মিনিবাস সড়ক পরিবহন ইউনিয়নের কিছু শ্রমিক তাঁকে রাস্তায় দেখা হলেই প্রাণনাশের হুমকি দেন। শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যপদ থেকেও তাঁকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। শ্রমিকদের অনেকেই তাঁকে হুমকি দেন—‘বেশি বারাবারি কইরে ফালাইছো। তোমার মাইয়া মইরা গেছে দুর্ঘটনায়, আর আমগো লোকরে ফাঁসাইয়া দিছ। পিচ্চি বাচ্চা পোলাপাইন আন্দোলন কইরা আমগো বিপদে ফালাইছে। আইন পাস হইছে আমগো বিরুদ্ধে। তোমারে আমরা ছারুম না, আজ হোকে কাল হোক মাইরা ফালামু।’ এ কথা বলার সময় জাহাঙ্গীর আলমের চোখে-মুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ, ঘামছিলেন তিনি। এসব হুমকির কথা পুলিশকে জানাচ্ছেন না কেন—এই প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার ওপর সব সময় নজর রাখে তারা। ভয়ে থানায় যেতে পারি না।’ 

জাহাঙ্গীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থেকে তিন মাস পর পর ৫০ হাজার টাকা আর দোকান থেকে যা কিছু আয় হয় তা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া ও বাসাভাড়াসহ একরকম চলছে সংসার।’ কিছুক্ষণ চুপ থেকে এরপর তিনি বলেন, ‘আপনাকে একটা সংবাদ দিই, এক বছর আগে আরেক কন্যাসন্তানের বাবা হইছি আমি। তার নামও রাখছি মীম।’

তিন জানান, মেয়ের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। এ ছাড়া রমিজ উদ্দিন স্কুল কর্তৃপক্ষ আরো এক লাখ টাকা দিয়েছিল। বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে এই টাকা সম্রাট পরিবহনের চেয়ারম্যান মোকলেছ মোল্লাকে দিয়েছিলাম। তিনি মাসে ৩০ হাজার করে দেবেন বলেছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো টাকা দেন নাই, চাইতে গেলে ধমক দেন।’ এ টাকার বিষয়ে জাহাঙ্গীর ফকির ঢাকা জেলা বাস মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন বরাবর গত ১২ জুলাই লিখিত আবেদন করেছেন। 

বাসচাপায় নিহত অন্য শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজীবের মামা মফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছোট থেকে মেধাবী ছিল রাজীব। ছোটবেলায় বাবার মৃত্যুর পর আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় লেখাপড়া করত। থাকত উত্তরার আশকোনায় আমার বাসায়। মায়ের স্বপ্ন ছিল, লেখাপড়া করে ছেলে অনেক বড় হবে। এখন তার মা ছেলের জন্য দিন-রাত চোখের পানি ফেলে আর দোয়া করে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা