kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রামে নমুনা সংগ্রহ-পরীক্ষা অস্বাভাবিকভাবে কমেছে

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস শনাক্তের ১০০ দিনের মধ্যে এক দিন (১২ দিন আগে) সর্বোচ্চ এক হাজার ৪৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। একই দিন সর্বোচ্চ ৪৪৫ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর পর থেকে নমুনা পরীক্ষা কমতে শুরু করে। শনাক্তের ৮৯তম দিন থেকে গত শনিবার (১০০ দিন) পর্যন্ত এই ১২ দিনে নমুনা পরীক্ষা কমেছে ৭২ শতাংশ। সে হিসাবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে মাত্র ২৮ শতাংশ। সেই সঙ্গে গত ১২ দিনে সংক্রমণের হার কমেছে ২৪ শতাংশ। এ ছাড়া অস্বাভাবিকভাবে কমেছে নমুনা সংগ্রহও। কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত কয়েক দিন নমুনা সংগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ (চট্টগ্রামের নমুনা) ও বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়নি। গত শনিবার বিআইটিআইডি, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি শেভরন ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাগার মিলে মোট ৪২৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ এসেছে ১০৫ জনের দেহে।

চট্টগ্রামে সংক্রমণ বেড়ে গিয়েছিল এখন থেকে প্রায় দেড় মাস আগে। ওই সময় থেকে প্রতিদিন গড়ে হাজারখানেক নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৮ জুন এসে এক দিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। ওই দিনই সর্বোচ্চ ৪৪৫ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। একটা সময়ে চট্টগ্রামে প্রতিদিন অন্তত গড়ে পাঁচ হাজার নমুনা পরীক্ষার দাবি ওঠে। কিন্তু নমুনা পরীক্ষা দেড় হাজার ছুঁই ছুঁইয়ের মধ্যে তা পার না হলেও পরে নমুনা আরো কমতে শুরু করে।

গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন পরীক্ষাগারের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা হয়। নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা ও শনাক্ত অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার বিষয়ে তাঁরা জানান, সম্প্রতি করোনা পরীক্ষার সরকারি ফি নির্ধারণসহ কয়েকটি কারণে চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষা কমে গেছে। সরকারি ফি নির্ধারণের পর থেকে আস্তে আস্তে নমুনা সংগ্রহ ও নমুনা পরীক্ষা কমতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি করোনা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আগে ভয়ভীতি কাজ করত এখন তা কমেছে। বড় ধরনের উপসর্গ না থাকলে খুব একটা পরীক্ষা করাচ্ছে না কেউ। এ ছাড়া পরীক্ষা কমে যাওয়ার পেছনে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে বিলম্বে ফল পাওয়াকেও দায়ী করেছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

চট্টগ্রামে ১০০ দিনে এসে সর্বনিম্ন নমুনা পরীক্ষা হওয়ার মানে কি চট্টগ্রামে সংক্রমণের চূড়ান্ত (পিক) পর্যায় পার হয়ে গেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইনফেকশাস ডিজিজেসের (বিআইটিআইডি) করোনা পরীক্ষাগার ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাকিল আহম্মদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নমুনা সংগ্রহ ও নমুনা পরীক্ষা কমে গেলেও পিক পার হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আগে বিনা মূল্যে সরকারিভাবে করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হতো। এখন সরকার নির্ধারিত ফিতে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদি ফি না থাকত, তাহলে বোঝা যেত কেন পরীক্ষার হার কমেছে?’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা