kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

অক্সফামের প্রতিবেদন

অনাহারে প্রতিদিন ১২ হাজার মানুষ মারা যেতে পারে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবে আগামী দিনে খাদ্যসংকটে পড়ে বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যত মানুষ মারা যাবে, তার চেয়েও বেশি মানুষ এ বছরের শেষ নাগাদ মারা যেতে পারে করোনার প্রভাবে সৃষ্ট খাদ্যসংকটে পড়ে।

‘দ্য হাঙ্গার ভাইরাস’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারির কারণে সাহায্য-সহায়তা কমে যাওয়া, ব্যাপক বেকারত্ব, খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন—এসব কারণে এ বছর প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ মানুষ অনাহারে পড়তে পারে।

বিবিসি জানায়, দাতব্য এই সংস্থা ১০টি দেশকে চিহ্নিত করেছে, যেখানে সবচেয়ে বেশি খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে আছে ইয়েমেন, আফগানিস্তান ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোও। এ দেশগুলোতে খাদ্যসংকট বাড়ছে। ভেনিজুয়েলা ও দক্ষিণ সুদানের মতো দেশগুলোতে যেখানে খাদ্যসংকট চরমে সেখানে মহামারির কারণে এ সংকট আরো ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। এমনকি মধ্যম আয়ের দেশ যেমন ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলেও মহামারির কারণে মানুষ না খেয়ে থাকার মতো পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।

আফগানিস্তানে ২০১৯ সালে যত মানুষ খাদ্যসংকটে ছিল তার চেয়েও এ বছর আরো বেশি মানুষ খাদ্যসংকটে পড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে ৩৫ লাখ মানুষ। করোনাভাইরাসের কারণে বহু মানুষ চাকরি হারানোয় এ বছর প্রথম চার মাসেই ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে রেমিট্যান্স ৮০ শতাংশ কমে গেছে। সীমান্ত ও পণ্য সরবরাহ রুট বন্ধ হয়ে খাদ্যঘাটতি দেখা দিয়েছে। বেড়ে গেছে খাবারের দাম।

অক্সফামের অন্তর্বর্তী নির্বাহী পরিচালক চেমা বেরা বলেছেন, বিশ্বে সংঘাত-সংঘর্ষ, জলবায়ু পরিবর্তন, অসমতা এবং ভেঙে পড়া খাদ্যব্যবস্থার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার চেষ্টা করা মানুষকে এখন এর ওপর আরেক বিপদ কভিড-১৯-এর ধাক্কা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সরকারকে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং একই সঙ্গে এই মহামারি যাতে অনাহারে আরো বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ না হতে পারে সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়াটাও জরুরি।

রয়টার্স জানায়, অক্সফামের প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সংকট ২০০৮ সালের বিশ্বমন্দার চেয়েও এখন দ্রুতই অনেক বেশি ঘনীভূত হচ্ছে। এ সংকটে ৫০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বে প্রথম বেড়ে যেতে পারে দারিদ্র্য। আয় ২০ শতাংশ কমলে চরম দারিদ্র্যে থাকা মানুষের সংখ্যা ৪৩ কোটিরও বেশি বেড়ে গিয়ে বিশ্বব্যাপী তা দাঁড়াতে পারে ১২০ কোটিতে। অক্সফাম বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উদ্ধৃতি দিয়ে আশঙ্কা করছে, এই বছর শেষ হওয়ার আগে ক্ষুধায় ভুগছে, এমন মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২৭ কোটিতে যাবে, যা গত বছর ১৪.৯ কোটি ছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা