kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

মাকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার ছুরিতে ছেলে খুন বাঁচলেন না মাও

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাবার ছুরিকাঘাত থেকে মাকে বাঁচাতে গিয়ে এক কিশোর খুন হয়েছে। তবে প্রাণ দিয়ে সাময়িকভাবে রক্ষা করতে পারলেও শেষ রক্ষা হয়নি তার মায়ের। দ্বিতীয় দফায় বাবার ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ওই কিশোরের মা গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে কাশীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভোলাইলের গেদুয়ার বাজার এলাকায় এই ছুুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন রিকশাচালক হারেজ মিয়ার (৫৫) স্ত্রী হোসিয়ারি শ্রমিক মনোয়ারা বেগম (৪০) এবং তাঁদের ছেলে গার্মেন্ট শ্রমিক সোহাগ (১৫)। দুজনকে ছুরিকাঘাতের পর হারেজ মিয়া আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এলাকাবাসী ও ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, হারেজ মিয়া স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে পশ্চিম ভোলাইলের গেদুয়ার বাজার এলাকায় শাহ আলমের টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকেন। সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। মঙ্গলবার রাতেও তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে হারেজ তাঁর স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করতে উদ্যত হলে ছেলে সোহাগ মাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়। এ সময় ক্ষিপ্ত হারেজ ছেলেকেই সজোরে ছুরিকাঘাত করেন। সোহাগ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্ত্রীকেও ছুরিকাঘাত করেন হারেজ। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে হারেজ নিজের পেটে ছুরি ঢুকিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সোহাগকে মৃত ঘোষণা করেন এবং স্বামী-স্ত্রীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হারেজের স্ত্রী মারা যান। হারেজের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাঁকে পুলিশ পাহারায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সময় ঘুমিয়ে থাকা ওই দম্পতির চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাখা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, হারেজদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য পুলিশের একটি দল কাজ করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা