kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

অভিবাসীদের ওপর করোনার প্রভাব

‘জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের’ আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের’ আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গতকাল আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ভার্চুয়াল গ্লোবাল শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার অভিবাসীদের ওপর করোনাভাইরাস মহামারির বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সব দেশের অংশগ্রহণে একটি ‘জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের’ আহ্বান জানিয়ে এই লক্ষ্যে তিন দফা পরামর্শ উপস্থাপন করেছেন।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ভার্চুয়াল গ্লোবাল শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভাইরাসটি বৈষম্যমূলক আচরণ করে না। তবে এর প্রতিকূল প্রভাবগুলো ঝুঁকিপূর্ণ লোকজন, বিশেষত অভিবাসী ও নারী শ্রমিকদের ওপর মারাত্মক বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আমাকে অবশ্যই বলতে হবে, এখন সব দেশ, সব আন্তর্জাতিক সংস্থা, সুধীসমাজ সংগঠন এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি জোরালো ও সুসংহত বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।’ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ‘বৈশ্বিক নেতাদের দিবস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপন করা তিন দফা প্রস্তাব হলো : প্রথমত, এই সংকটের সময় বিদেশে অভিবাসী কর্মীদের চাকরি বজায় রাখতে হবে; দ্বিতীয়ত, প্রতিষ্ঠান বন্ধের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য সুবিধা পুরোপুরি প্রদানের পাশাপাশি তাদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করতে হবে; এবং তৃতীয়ত, মহামারির পরে অর্থনীতি পুনরায় সক্রিয় করার জন্য এই শ্রমিকদের নিয়োগ দিতে হবে।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এবং সংকট মোকাবেলায় গৃহীত ব্যবস্থাগুলো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গভীরভাবে আইএলওর সব প্রচেষ্টার প্রশংসা করে।

তিনি বলেন, ‘এ মহামারি বিশেষত আমাদের শ্রমিকদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী এই বিপর্যয় এখন বিশ্বায়ন ও যোগাযোগের মূল ভিত্তিকে হুমকির মুখে ফেলেছে, যা আমরা সুদীর্ঘ সময় ধরে অনেক যত্নে গড়ে তুলেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এখন শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা নয় বরং একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য সংকটের মতো, এলডিসি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোই কভিড মহামারির মূল বোঝার মুখোমুখি হচ্ছে, যদিও এই সংকট তাদের দিয়ে শুরু হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এই মহামারির কারণে আমাদের দেশীয় ও বৈদেশিক সরবরাহ চেইনগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আমরা কয়েক বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আদেশ হারিয়েছি, আমাদের অনেক শিল্প বন্ধ হয়ে গেছে এবং লাখ লাখ শ্রমিক তাদের চাকরি হারিয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র শিল্প তাদের বেশির ভাগ সম্পদ ও বাজার হারিয়েছে এবং সর্বোপরি সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণে কৃষি ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এর ওপর আমরা মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯ সংকট শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকার দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের জন্য ১২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার উদ্দীপনা প্যাকেজ এবং পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন অংশের জন্য সহায়তা ঘোষণা করে। তিনি বলেন, ‘এই সহায়তা প্যাকেজ আমাদের জিডিপির ৩.৭ শতাংশের সমান। রপ্তানি শিল্পে আমাদের শ্রমিকদের সহায়তা দিতে আমরা শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য প্রায় এক বিলিয়ন ডলার দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এই মহামারি চলাকালীন দৈনিক আয় হারিয়েছে এমন ৫০ মিলিয়নের বেশি লোককে আমরা সরাসরি নগদ অর্থ এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদান করেছি।’ বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের ব্যাপক হারে চাকরি হারানো এবং এর ফলে রেমিট্যান্স হ্রাস পাওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসডিজি অর্জনে রেমিট্যান্স একটি মূল উপাদান হওয়ায় এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে এই চাকরিবিহীন শ্রমিকদের প্রত্যাবাসন এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে আমরা ২০ শতাংশের বেশি রেমিট্যান্স আয় হারাব।’

আইএলওর মহাপরিচালক গাই রাইডার এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানোম গেব্রেয়েসাস এবং সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, আয়ারল্যান্ড, ফিজি, থাইল্যান্ড, নেপাল, সামোয়া, পাকিস্তান, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা এবং ডাব্লিউটিওর ডিজি ও আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অন্যদের মধ্যে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা