kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ দুর্ঘটনা

ঠিকানা মিললেও আসামিরা অধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাস্টার-সারেংয়ের স্থানে থাকা ব্যক্তিরা সামনে থাকা ছোট্ট মর্নিং বার্ড লঞ্চটিকে দেখেও বৃহদাকার ময়ূর-২ লঞ্চটিকে তার ওপর দিয়ে বেপরোয়া চালিয়ে দিয়ে সেটিকে ডুবিয়ে দেয়। এতে মর্নিং বার্ড লঞ্চের ৩৪ যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সম্প্রতি সদরঘাটের কাছে বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ ডুবিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মর্নিং বার্ডের বেঁচে যাওয়া ১২ যাত্রীসহ ৪১ জন সাক্ষীর বক্তব্য; সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং আলামত যাচাই করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে কমিটি। গত সোমবার কমিটি নৌ মন্ত্রণালয়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে ২০ দফা সুপারিশের কথা বললেও দুর্ঘটনার কারণ এবং দায়ীদের সম্পর্কে কিছু বলেননি। অভিযুক্ত ময়ূর-২ লঞ্চের মালিকসহ আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার না হলেও পুলিশের তদন্তে অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হতে পারে। গতকাল পর্যন্ত ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ ছোয়াদ, মাস্টার আবুল বাশার মোল্লাসহ সাত এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি নৌ পুলিশ। তবে গতকাল সকালে সদরঘাটের লালকুঠি এলাকা থেকে লঞ্চটির সুপারভাইজার আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের নির্দেশে তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

গতকাল নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে জানান, মর্নিং বার্ড লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৩৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হলে এসংক্রান্ত অবহেলাজনিত মামলাটি ‘হত্যা মামলা’ (ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০২ ধারা) হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতিবেদনে ২০টি সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত সূত্র জানায়, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এই তদন্ত সহজ করে দিয়েছে। পরিষ্কার দেখা গেছে, সামনে মর্নিং বার্ডকে দেখে বেপরোয়া চালিয়ে ডুবিয়ে দেয় ময়ূর-২। ২০ দফা সুপারিশের মধ্যে আছে লঞ্চের ব্যাগার দেওয়ার (পেছনে যাওয়ায়) ক্ষেত্রে সতর্কতায় কড়াকড়ি আরোপ করা; সিসি ক্যামেরা লাগানো; ওয়াকি-টকি ব্যবহার করা; ঘটনাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা এবং ময়ূর-২ লঞ্চের মাস্টারের, মালিকের লাইসেন্স বাতিল করা। নৌ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। সবার ঠিকানাই আমরা পেয়েছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা