kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

কমছে পানি, ভাঙনে ভয়

বন্যা পরিস্থিতি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কমছে পানি, ভাঙনে ভয়

ফাইল ছবি

নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় উওরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে পানি কমতে থাকায় ভাঙনের তীব্রতা নতুন রূপ পেয়েছে। ভাঙনে নদীতীরবর্তী অনেক মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, ধরলা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি কমছে। তবে বাড়ছে করতোয়া নদীর পানি। তিস্তার পানিও কিছুটা বাড়ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কিছু কিছু এলাকায় এখনো মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

গাইবান্ধা : গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ীতে করতোয়া নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ওই এলাকার মানুষ বন্যা আতঙ্কে রয়েছে। গতকাল বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী পয়েন্টে ৯১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। অন্যদিকে তিস্তার পানিও মঙ্গলবার সকাল থেকে বাড়ছে। সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৯ ঘণ্টায় তিস্তার পানি সাত সেন্টিমিটার বেড়েছে। করতোয়া ও তিস্তার পানি এখনো বিপত্সীমার নিচে থাকলেও  সেখানকার ভাঙন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তবে ব্রহ্মপুত্রের পানি গতকাল সকালে কমে বিপত্সীমার নিচে যাওয়ায় গাইবান্ধার কোনো নদীর পানি এখন আর বিপত্সীমার ওপরে নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধা নির্বাহী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ব্রহ্মপুত্রের পানি কমেছে, করতোয়ার পানি বাড়ায় শঙ্কার কিছু নেই।

কুড়িগ্রাম : ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হয়েছে। তবে পানি কমলেও বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। চরাঞ্চলের নিচু এলাকার মানুষ এখনো পানিবন্দি রয়েছে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসহ গো-খাদ্যের সংকট। বাড়িঘর বসবাসের উপযোগী না হওয়ায় রাস্তা ও বাঁধের ওপর আশ্রিত হাজারো মানুষ এখনো ঘরে ফিরতে পারেনি। এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের থাবায় হারিয়ে গেছে ভূমিহীন ৭৫ পরিবারের শেষ আশ্রয়। দুই দিনের মাথায় নদের গর্ভে চলে গেল নাওশালা আশ্রয়ণ কেন্দ্রটি।

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে বিভিন্ন নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গতকাল যমুনা নদীতে বিপত্সীমার ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। কালিহাতীর গোরিলাবাড়ী থেকে বেলটিয়া পর্যন্ত গাইডবাঁধ গত শনিবার রাতে ভেঙে যায়। এতে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়।

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) : জগন্নাথপুরে বন্যার পানি কমেছে। তবে প্লাবিত এলাকারগুলোর মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। ঘরবাড়ির চারপাশে এখনো পানি থাকায় কার্যত পানিবন্দি হয়ে আছে হাজারো পরিবার। অব্যাহত ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার হাওরবেষ্টিত চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের ভুরাখালি, দাসনাগাঁও, হরিণাকান্দি, কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা, জগদ্বীশপুর, কামারখাল, গলাখাই, কান্দারগাঁও, নোয়াগাঁও, পাড়ারগাঁওসহ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ১০ থেকে ১২টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

শেরপুর : শেরপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকায় সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ও কামারের চর ইউনিয়নের আট গ্রামের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ডুবে যাওয়া পাট, ধৈঞ্চা ও সবজির আবাদ নিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

শরীয়তপুর : পদ্মার ভাঙনে ভেদরগঞ্জের উত্তর তারাবুনিয়া চেয়ারম্যান স্টেশন বাজারে গত সোমবার গভীর রাতে আটটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সাত দিন আগে ওই বাজারের আরো পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন আতঙ্কে মঙ্গলবার বাজার থেকে আরো ২০টি দোকানঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুর : পদ্মা ও মেঘনার তীব্র স্রোতের কারণে চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার হরিসভা এলাকায় নদীতীর দেবে যাচ্ছে। এর মধ্যে গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত হরিসভা মন্দিরের সামনে বেশ কিছু এলাকা দেবে গেছে। মূলত দেশের উত্তরাঞ্চলের বানের পানি দক্ষিণে নামতে শুরু করায় পদ্মা গড়িয়ে পাশের মেঘনার এই অংশ ভাঙছে। এরই মধ্যে হরিসভার ৫০টি বসতবাড়ি নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।

লালমনিরহাট : তিস্তার ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। গতকাল আদিতমারীর মহিষখোচা ইউনিয়নের কুঠিরপাড় এলাকায় তিস্তাপারে জিওব্যাগ স্থাপন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এ কথা বলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা