kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

প্রাণ গেল আরো ১১ জনের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রাণ গেল আরো ১১ জনের

নতুন করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) উপসর্গ নিয়ে চার জেলায় গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার এক মুক্তিযোদ্ধাসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের কভিড-১৯ ইউনিটে মারা যান ছয়জন। এদিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল চিকিৎসাসেবা না পেয়ে করোনার উপসর্গ নিয়ে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে রোগীর স্বজনরা। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

ঝালকাঠি : শুক্রবার রাতে ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের বাড়ি থেকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রব (৭২)। ঝালকাঠি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার দুলাল সাহা জানান, আবদুর রব এক সপ্তাহ ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তাঁর মৃতদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তাঁর নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

কুমিল্লা : শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ছয়জন হলেন—কুমিল্লা সদর উপজেলার আবদুল কাদের (৬০), ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আবদুল করিম (৭৫), মনোহরগঞ্জ উপজেলার জামাল উদ্দিন (৫৩), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাসু দেব (৭২), একই জেলার শাহারাস্তি উপজেলার নাজমা রহমান (৫০) ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার লুত্ফর নেছা (৬২)। কুমেকের সহকারী পরিচালক ডা. সাজেদা খাতুন জানান, করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে তিনজন ও আইসিইউতে তিনজন মারা যান।

রাজশাহী : শুক্রবার দিবাগত রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন দুজন মারা গেছেন। তাঁরা হলেন রাজশাহীর রাজপাড়ার মেহের উদ্দিনের ছেলে গিয়াস উদ্দীন (৪৫) এবং বোয়ালিয়া থানার মামুন-উর-রশীদের ছেলে আব্দুল অহেদ (৫৭)। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত বৃহস্পতিবার গিয়াস উদ্দিন এবং শুক্রবার আব্দুল অহেদ হাসপাতালে ভর্তি হন।

হাসপাতালের উপপরিচাক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, মৃত দুজনের নমুনা সংগ্রহ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দাফনে সহযোগিতা করেছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।

গোপালগঞ্জ : টুঙ্গিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত রোগীর নাম কাজী আলমগীর। তাঁর বাড়ি টুঙ্গিপাড়ার কেরাইলকোপা গ্রামে। লাঞ্ছিত হওয়া চিকিৎসকের নাম অপূর্ব বিশ্বাস। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ইয়ার আলী মুন্সী বলেন, ‘সকালে (গতকাল) করোনার উপসর্গ নিয়ে কাজী আলমগীর হাসপাতালে আসেন। আমরা তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তির কার্যক্রম শুরু করি। এরই মধ্যে সকাল ৮টার দিকে মারা যান তিনি। রোগীর আত্মীয় গাজী তরিকুল ও তাঁর সঙ্গে আসা তিন-চারজন ডা. অপূর্ব বিশ্বাসকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।’

গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ‘ডাক্তারকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সব চিকিৎসকের মত সত্ত্বেও করোনাকালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করে আমরা কোনো কর্মসূচি না দিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

এ প্রতিবেদন লেখার সময় এ বিষয়ে চিকিৎসকদের পক্ষে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছিল।

ফরিদপুর : গতকাল সকালে ফরিদপুর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এক নারী (৩৫)। তিনি ফরিদপুর শহরের বাসিন্দা। গত শুক্রবার সকালে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। মৃত্যুর পর তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা