kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

ভাড়ার জন্য শিক্ষা সনদ মালপত্র গায়েব

ছাত্রাবাসের মালিক রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাড়ার জন্য শিক্ষা সনদ মালপত্র গায়েব

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ছাত্রাবাসের ভাড়া দিতে না পারায় শতাধিক ছাত্রের সার্টিফিকেটসহ মূল্যবান মালপত্র ভাগাড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রাজধানীর রাজাবাজার এলাকার বেসরকারি ছাত্রাবাস ‘আলিফ হোস্টেল’-এর তত্ত্বাবধায়ক তথা মালিক খোরশেদ আলমকে গত বুধবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, খোরশেদ আলমকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম মাসুদুর রহমান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে গত মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হলে সব শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে তাঁদের কক্ষে তালা লাগিয়ে বাড়িতে চলে যান। কিছুদিন আগে তাঁরা জানতে পারেন, ছাত্রাবাস মালিক খোরশেদ আলম এপ্রিল থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসের ভাড়া না পেয়ে তাঁদের কক্ষ ভেঙে চেয়ার-টেবিল, বই-খাতা আসবাবসহ মালপত্র সরিয়ে ফেলেছেন। গত বুধবার সকালে শিক্ষার্থীদের সবাই ঢাকায় আসেন। তাঁরা খোরশেদকে ফোন করলে তিনি এসে বলেন, বকেয়া টাকা দিলে মালপত্র দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের চাপে বুধবার রাতে যেখানে মালপত্র রাখা হয়েছে, সেখানে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা দেখতে পান, তাঁদের প্রত্যেকের স্যুটকেসের তালা ভাঙা। লেপ-তোশক ছাড়া কোনো মালপত্রই নেই। পরে রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা কলাবাগান থানায় গিয়ে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, কাজটি খুব অন্যায় হয়েছে। করোনার এই সময়ে যেখানে সব কিছু স্থবির হয়ে পড়েছে, সেখানে ছাত্ররা যদি ভাড়া নাও দিতে পারেন সে জন্য তাঁদের সার্টিফিকেটসহ গুরুত্বপূর্ণ মালপত্র ভাগাড়ে ফেলতে হবে কেন? ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাত্রদের মধ্যে অনেকে ঢাকা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। সামনে তাঁদের পরীক্ষা। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছাড়া তাঁদের পরীক্ষা দিতে সমস্যা হবে জানিয়ে ডিসি রমনা বলেন, ‘এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি।’ কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র বলেন, খোরশেদ আলমকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদের কিছু মাল এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।

বাড়িওয়ালা অধরা

একই অভিযোগে আরেক ছাত্রের করা মামলায় মুজিবুল হক নামের আরেক বাড়িওয়ালাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার বাদীর বরাতে ওসি বলেন, আলিফ হোস্টেলে ১৩০ জন শিক্ষার্থী ও মুজিবুল হকের মালিকানাধীন কলাবাগানের ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ট্রিটের রুবি ভবনে আট শিক্ষার্থী ভাড়া থাকেন। ওই শিক্ষার্থীরা মহামারিতে ছুটিতে গিয়েছিলেন।

জানতে চাইলে সজীব মিয়া নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, কলাবাগানের সাততলা ভবনের নিচতলায় তাঁরা চার বছর ধরে ভাড়া রয়েছেন। করোনার আগে তাঁরা নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করেন।

আটজনের মধ্যে আইডিয়াল কলেজের সাজ্জাদ হোসেন, মো. সাহেদ, সিটি কলেজের তামিম ও তেজগাঁও কলেজের অলিউল্লাহ এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার আগে তাঁদের শিক্ষা সনদ ও মালপত্র গায়েব হওয়ায় তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্বাবিদ্যালয়ের একজন ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের একজন শিক্ষার্থী তাঁর সঙ্গে নিচে ভাড়া থাকতেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, গত ৫ মার্চ ওই মাসের ভাড়া দিয়ে তাঁরা গ্রামের বাড়িতে চলে যান। মাঝে ভবন মালিক মুজিবুল হকের সঙ্গে কথা হয় এবং ১৫ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঢাকা কলেজের ইসলামের ইতিহাসের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সজীব বলেন, ‘একাডেমিক সার্টিফিকেট ছাড়াও আমার প্রেসিডেন্ট রোভার স্কাউট পদকের পরীক্ষার জন্য সংরক্ষিত লগ বইসহ সব ডকুমেন্ট ছিল। এখন আমি কী করব বুঝতে পারছি না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা