kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

করোনাকালে অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা

অনলাইনে যা দেখানো হয় অনেক ক্ষেত্রে সে মানের পণ্য দেওয়া হয় না

জহিরুল ইসলাম   

৩০ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এখন ঘরে থাকছে বেশির ভাগ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই তাদের বেশির ভাগ সময় কাটছে। এখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস অনলাইনেই অর্ডার করছে অনেকে। এ অবস্থাকে সুযোগ হিসেবে ধরে এরই মধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সাইবার অপরাধীরা। তাই অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছে অনেকে। আবার ক্রেতা সেজে বিক্রেতার বিপদ ঘটানোর চিত্রও আছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে এমন অনেক তথ্য।

গত রোজার ঈদের আগে অনলাইন শপ দারাজে স্কুলপড়ুয়া ছেলের জন্য হাতঘড়ির অর্ডার করেন রুম্মান ওয়াহেদ। ঘড়ির দাম ৩২০ টাকা এবং ডেলিভারি চার্জ ৭০ টাকা। ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকমে কর্মরত সাংবাদিক রুম্মান কালের কণ্ঠকে জানান, ঘড়ি ডেলিভারি পাওয়ার পর দেখা গেল সেটি নষ্ট। দারাজে যোগাযোগ করলে বলা হয়, টাকা ফেরত নিতে হলে জিগাতলায় তাদের লোকাল অফিসে যেতে হবে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে সেখানে যাওয়ার পর ঘণ্টাখানেক বসিয়ে রেখে নানাভাবে হয়রানির পর দুটি ফরম দেওয়া হয় তাঁকে। ফরম পূরণের পর বলা হয়, টাকা ফেরত দিতে আট কার্যদিবস লাগবে এবং বিষয়টি এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর দেড় মাস পার হয়ে গেছে, দারাজ এখনো টাকা ফেরত দেয়নি।

এ সম্পর্কে ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা কিছু অভিযোগ পেয়েছি। ব্যবস্থা নিচ্ছি। এমন অভিযোগ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভেজাল পণ্যের অভিযোগটা বেশি আসে। পণ্যের মান, ভুয়া প্রচারণাসহ কিছু কমন অভিযোগ আসে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে কাজ করা হয়েছে। আসলে অনলাইনের পণ্য বিক্রেতাদের মধ্যে অনেকের ট্রেড লাইসেন্সও নেই। এ ছাড়া পণ্যগুলো নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বীকৃত নয়।’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া সুলতানা বলেন, ‘নির্দিষ্ট পণ্য না দিয়ে অন্য পণ্য দিলে অথবা নকল পণ্যের প্রমাণ দিতে পারলে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। বর্তমানে অনলাইনে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটছে, অভিযোগও আসছে।’

সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় দেখা যায়, গত ১৪ এপ্রিল ফোন কর্নার নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মোবাইল কিনতে যোগাযোগ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অদ্রি আখন্দ। পরে তাঁর কাছ থেকে বিকাশে ০১৩১৫৮৫৩১৬৩ নম্বরে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং জানানো হয় কাঙ্ক্ষিত মোবাইল সেটটি হাতে পাওয়ার পর বাকি টাকা দিতে হবে। এর পর থেকে অদ্রির ফোন নম্বরটি ব্লক করে দেয় তারা। একই ধরনের অভিযোগ করেন হাবিবা হাসান নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা