kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ

লক্কড়ঝক্কড় বাসে নতুন রং

বাংলামোটরে পিষ্ট হয়ে দুজনের মৃত্যু

রেজোয়ান বিশ্বাস   

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাসের ইঞ্জিন, ব্রেক, চাকা—সবই পুরনো। সিটের অবস্থাও ভালো নয়। লক্কড়ঝক্কড় বাসটি রং করে রাস্তায় নামানো হয়। রাজধানীর বাংলামোটরে গত বৃহস্পতিবার দুজনকে পিষে মারা বিহঙ্গ পরিবহনের বাস এটি। এ ঘটনায় দায়ের মামলায় প্রাথমিক তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের শাহবাগ থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বাসটির এ বর্ণনা দিয়েছেন। এটিকে তিনি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

আমিনুল ইসলাম গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এত ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে বাসটি যাত্রী উঠিয়ে সড়কে চলছিল কিভাবে সেটাই ভাবনার বিষয়। তবে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক থাকলেও প্রাথমিক তদন্তে গাড়ির কাগজপত্র আপডেট নয় বলে জানা গেছে। এসব জানতে মালিকপক্ষের সাইফুলকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেছি। তিনি এখনো আসেননি। নানা টালবাহানা করছেন।’  

শুধু বিহঙ্গ পরিবহনের এই বাসটি নয়, রাজধানীতে এ রকম আরো অন্তত কয়েক শ লক্কড়ঝক্কড় বাস চলছে জানিয়ে ঘটনার দিন বাংলামোটরে ট্রাফিক সিগন্যালে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সংগ্রম দেবনাথ বলেন, ‘ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি ধরা পড়লেই মামলা দিই আমরা। এরপর নানা কারণে এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে দুই মাস গ্যারেজে পড়ে ছিল বিহঙ্গ পরিবহনের বাসটি। এতে বাসটির যন্ত্রাংশে মরিচা ধরে যায়। এর মধ্যেই সরকারি সিদ্ধান্তে গত ১ জুন সড়কে আবারও বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত হলে সব কিছু ঠিকমতো পরীক্ষা না করেই তড়িঘড়ি করে বাসটি নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন চালক মো. জাফর। তাঁর দাবি, কখন যে ব্রেক অকেজো হয়ে পড়েছিল বুঝতে পারেননি তিনি। আর এ কারণেই ব্রেক ফেল করলে সিগন্যালে থামতে পারেননি তিনি।

মামলায় গ্রেপ্তার জাফরকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে গত শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা এবং মহাসড়কে স্বল্প গতির যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনা ঘটছে।

মন্তব্য