kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

ব্যবহৃত সুরক্ষা সামগ্রীর তথ্য নেই কারো কাছে

সুরক্ষা সামগ্রীর বর্জ্য বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানও নিচ্ছে না সুরক্ষা সামগ্রী

শাখাওয়াত হোসাইন   

৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুরক্ষা সামগ্রীর বর্জ্য বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক, হাতমোজা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর (পিপিই) ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে। ভাইরাসে আক্রান্ত এবং অনাক্রান্ত সবাই ব্যবহার করছে এসব সুরক্ষা সামগ্রী। কিন্তু ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য বর্জ্যের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেগুলো সংগ্রহ করছেন। ঢাকায় সংগ্রহ করা এসব বর্জ্য ফেলেও দেওয়া হচ্ছে ভাগাড়ে। এসব বর্জ্যের কারণে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতরা। আবার যত্রতত্র এসব সামগ্রী ফেলে আসার কারণে সুস্থরাও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী পৃথকভাবে ব্যবস্থাপনা এখনো গড়ে ওঠেনি বলে স্বীকার করেছেন খোদ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা। অবশ্য এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগের মধ্যে সুরক্ষা সামগ্রীর সঠিক ব্যবস্থাপনাও জড়িত। কারণ এসব সামগ্রী দ্বারা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। সারা দেশে বা শহরগুলোতে কত শতাংশ মানুষ মাস্ক, হাতমোজা বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করছেন সে বিষয়ে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থার কাছে সঠিক তথ্য নেই। তবে বিভাগীয় শহরগুলোতে ৯০ শতাংশ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করেন বলে ধারণা করছেন তাঁরা। এ ছাড়া দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ বর্তমানে মাস্ক ব্যবহার করছেন। সচেতন মানুষরা হাতমোজা এবং বিশেষ ক্ষেত্রে পিপিই ব্যবহার করছেন। এসব সামগ্রী ব্যবহারের পর তা যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বাসাবাড়ির অন্যান্য বর্জ্যের সঙ্গে ফেলে দেন মাস্ক ও পিপিই। এসব বর্জ্য সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সংগ্রহ করে পরিবহনের জন্য সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) নিয়ে যান। সেখান থেকে ট্রাকে ভরে ফেলে দেওয়া হয় ভাগাড়ে।

মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকারী প্রতিষ্ঠান প্রিজম বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আনিসুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকাসহ মোট ছয়টি শহরের মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমরা করে থাকি। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত বিস্তর পরিসরে মাস্ক, গ্লাভস (হাতমোজা) বা পিপিইর ব্যবহার ছিল না। আমরা এখনো হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করি। ফলে সব স্থান থেকে বা ডাস্টবিন থেকে বর্জ্য সংগ্রহ আমরা করতে পারি না। কিন্তু মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে এসব বর্জ্য। এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি দেওয়া উচিত।’

জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, রংপুর, যশোর ও সিলেটের মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে প্রিজম বাংলাদেশ। এর বাইরে দেশের অন্যান্য বেশ কয়েকটি শহরে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে সংগ্রহ করে তা পুড়িয়ে ফেলে এসব প্রতিষ্ঠান। আর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশনের সংগ্রহ করা কঠিন বর্জ্যের মধ্যে ব্যাপক হারে বেড়েছে সুরক্ষা সামগ্রী। গতকাল শুক্রবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে গিয়ে এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা গেছে। এসব ব্যবহৃত সুরক্ষা সামগ্রী একসঙ্গে পরিবহন করতে দেখা গেছে ল্যান্ডফিল বা ভাগাড়ে।

বারিধারা সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মিলন মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব বর্জ্য একসঙ্গে নিয়ে আসতেছি। আলাদাভাবে কেউ দেয় না। বড় স্যাররাও কিছু জানায় নাই।’

ব্যবহৃত সুরক্ষা সামগ্রী আলাদাভাবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছে দেওয়ার ব্যাপারে নাগরিকদের সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসসিসি। সে লক্ষ্যে গণবিজ্ঞপ্তি, মাইকিং ও লিফলেট বিলি করার প্রক্রিয়া শুরু করবে সংস্থাটি। কিন্তু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এখনো এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানা গেছে।

ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. বদরুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সুরক্ষা সামগ্রী আলাদাভাবে এখনো নাগরিকরা দিচ্ছেন না। আলাদাভাবে সংগ্রহ করতে পারলে আমরা তা পুড়িয়ে ফেলতে পারতাম। তবে নগরবাসীকে সচেতন করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে খুব শিগগিরই।’

একই বিষয়ে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এস এম শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখনো আলাদাভাবে ব্যবহৃত সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবস্থাপনা করতে পারছি না। অন্য সময়ের মতোই বর্জ্য সংগ্রহ করে ল্যান্ডফিলে নেওয়া হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা