kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

খুলছে দোকানপাট, শঙ্কা সংক্রমণ নিয়ে

‘নিজের সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে’

সজীব আহমেদ   

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে টানা দুই মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গত রবিবার থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে অফিস-আদালত, মার্কেট ও দোকানপাট এবং সোমবার থেকে চলতে শুরু করেছে গণপরিবহনও। করোনার শঙ্কা নিয়েই স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে মানুষ। রাস্তায় বেড়েছে জনসমাগম। দোকান খোলার অনুমতির কথা শুনে মালিক ও কর্মচারীরা গ্রাম থেকে শহরে ফিরেছেন। সরকার অবশ্য স্বাস্থ্যবিধি ঠিক করে দিয়েছে। কিন্তু এতেই শেষ রক্ষা হবে কি না সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এখন রেকর্ড আক্রান্ত এবং রেকর্ড মৃত্যুর মধ্যেই দোকান-মার্কেট খুলে দেওয়ায় সংক্রমণ নিয়ে ব্যবসায়ীরা শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানান।

মার্কেট খুলেছে, ক্রেতা তুলনামূলক অনেক কম। তবে রাজধানীর বিভিন্ন মোবাইল ফোনের দোকানে মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু করে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজধানীসহ সারা দেশের মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলা রাখার নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ দোকান মালিক নির্দেশনা মানছেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবশ্যই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হবে। সেই সঙ্গে নিজের সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। এ জন্য সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। এই পরিস্থিতিতে মানুষকে অবশ্যই ব্যক্তিগত সুরক্ষার কথা চিন্তা করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পোশাক, পাদুকা, গৃহস্থালিসামগ্রী, প্লাস্টিকসামগ্রী, মোবাইল, টাইলস ও স্যানিটারি, হার্ডওয়্যার, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকসসহ সব পণ্যের দোকান খুলেছে। প্রতিটি মার্কেটে ও বড় বড় দোকানে জীবাণুনাশক স্প্রে রাখা আছে এবং মুখে মাস্কের ব্যবহার করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানে কিছু ক্রেতার আনাগোনা ছিল। যদিও দোকানিরা জানিয়েছেন, বেচাকেনা কম। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা নিয়েও জীবিকার তাগিদে দোকান খুলতে হয়েছে। তাই ক্রেতা পাওয়া না গেলে পরিস্থিতি কঠিনতর হবে তাঁদের জন্য। 

এদিকে গতকাল সকালে জোয়ারসাহারা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে সামাজিক দূরত্ব একদমই মানা হচ্ছে না। বাজারগুলো স্বাভাবিক সময়ের মতোই জমজমাট। এতে ভাইরাসের সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। মানুষ জটলা বেঁধে জিনিস কিনছে। বাজারের প্রতিটি মুদি দোকান ঘিরেও মানুষের ভিড়। কোথাও কম, কোথাও বেশি ক্রেতা। বাজারে স্বাভাবিক জীবনযাপনের মতো মানুষজন চলাফেরা ও ভিড় করে কেনাবেচা করছে। সামাজিক দূরত্বও কেউ মেনে চলছে না।

রাজধানীর অধিকাংশ বিপণিবিতান খোলা হয়েছে। কিন্তু এক অর্থে বেচাকেনা হচ্ছেই না বলা যায়। বিক্রেতারা মাস্কে মুখ ঢেকে চুপচাপ বসে আছেন। মোবাইলের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি আছে। এখানে সামাজিক দূরত মানা হচ্ছে না। বেশ ভালোই বেচাকেনা চলছে। কুড়িল চৌরাস্তা এলাকায় গৃহস্থালি সামগ্রীর দোকানের মালিক কিরণ মিয়া বলেন, ‘দোকানে বিভিন্ন ধরনের মানুষ আসে, দেখে তো বোঝার উপায় নেই কে আক্রান্ত, আর কে আক্রান্ত না। তবে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা নিয়েই আমাদের চলতে হবে। কারণ দোকান না খুলে মাসের পর মাস ঘরে বসে থাকলে চলবে কী করে।’

মার্কেটের দোকানদাররা জানান, সরকারি শর্ত মেনে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় নিয়ে জীবিকার তাগিদে দোকান খুলতে হয়েছে। তবে ভিড় বাড়লে সুরক্ষা মানা সম্ভব হবে না। সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় তাঁরা নিজেরাও আতঙ্কিত। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানদারি করবেন বলে জানান তাঁরা।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন মানুষজন খুব সচেতন। করোনা সংক্রমণ বাড়ায় দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। তবে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দোকান-মার্কেটগুলো খুলেছেন ব্যবসায়ীরা।’

ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ ?মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. মামুন আল মাহতাব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেভাবে সরকার নিয়মগুলো মেনে চলতে বলেছে দোকান-মার্কেটগুলোতেও সেভাবে মেনে চলতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচাকেনা করা, মুখে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস পরতে হবে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হবে। সবাইকে অবশ্যই ব্যক্তিগত সুরক্ষার কথা চিন্তা করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা