kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

দ্য গার্ডিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর লেখা

যেভাবে একই সঙ্গে আম্ফান-করোনা মোকাবেলা করল বাংলাদেশ

করোনাকালেও প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফানকে সাফ্যল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করে বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যেভাবে একই সঙ্গে আম্ফান-করোনা মোকাবেলা করল বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত একটি লেখায় করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে প্রবল ঘূর্ণিঝড় (সুপার সাইক্লোন) আম্ফান মোকাবেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সব সময় নিজেদের প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতা অন্যদের জানাতে আগ্রহী বলে জানান তিনি। জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বদ্বীপ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি নানা পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন লেখায়। গতকাল বুধবার লেখাটি প্রকাশিত হয়—

মে মাসে যখন ভারত সাগরে প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান সৃষ্টি হচ্ছিল, নষ্ট করার মতো কোনো সময়ই বাংলাদেশের হাতে ছিল না। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানা যায়, বিধ্বংসী এ ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের ওপর ব্যাপক আঘাত হানবে। এমনিতেই দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ চলছে, এ সময় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। ওদিকে আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সামাজিক দূরত্বের কথা বিবেচনায় রেখে বানানো নয়। ফলে দেশ এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে, কিভাবে ২৪ লাখ মানুষকে আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে বাঁচাতে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়। আবার এটাও খেয়াল রাখতে হবে, তারা যেন ঘূর্ণিঝড় থেকে বাঁচতে গিয়ে আরো বড় বিপদ করোনার কবলে না পড়ে। মানুষ এমনিতেই নিজেদের ঘরবাড়ি অনিরাপদ অবস্থায় রেখে আশ্রয়কেন্দ্র বা কোথাও সরে যেতে চায় না। এবার করোনা সংক্রমণের মধ্যে এ পরিস্থিতি ছিল আরো জটিল। করোনা আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে চাইছিল না।

সার্বিক পরিস্থিতিতে যাতে মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যায়, এ লক্ষ্যে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে আগেকার চার হাজার ১৭১ আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে আরো ১০ হাজার ৫০০ বাড়তি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করি আমরা। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে নামানো হয় ৭০ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী। বিতরণ করা হয় পর্যাপ্ত মাস্ক, পানি, সাবান ও স্যানিটাইজার। বিদেশি ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ায় ভুক্তভোগী পোশাক কারখানাগুলো নেমে পড়ে ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) তৈরির কাজে।

যথাযথ সময়ে পূর্বসতর্কতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষকে নিরাপদ রাখা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও পুনরায় মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রয়েছে দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা। এর মাধ্যমেই এই করোনাকালেও প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফানকে সাফ্যল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করে বাংলাদেশ। আর এতে করে বেঁচে যায় হাজার হাজার মানুষের জীবন। সূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা