kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

মাকে মেরে কলেজছাত্রীকে অপহরণ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাগেরহাটের শরণখোলায় এক যুবক সাত-আটজন সহযোগীসহ এক নারীকে ঘরে ঢুকে মারধর ও জিম্মি করে তাঁর অনার্স পড়ুয়া মেয়েকে (১৯) তুলে নিয়ে যান। গত সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার ১৫ ঘণ্টা পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে ওই কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সুজন গাজী (২৯) শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মঠেরপাড় গ্রামের ফারুক গাজীর ছেলে। সুজন মাদকাসক্ত ও কারবারি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্তরা এ ঘটনায় বাড়াবাড়ি বা মামলা করলে পরিবারটির সবাইকে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এতে প্রথমে মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করে কলেজছাত্রীর পরিবার। পুলিশ পরিবারটিকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ায় গতকাল বুধবার বিকেলে কলেজছাত্রীর বাবা তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

কলেজছাত্রীর বাবা জানান, সুজন কলেজছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। কিন্তু তিনি (সুজন) মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে বিয়েতে তাঁরা রাজি নন। এতে সুজন তাঁদের ওপর ক্ষুব্ধ। সোমবার তিনি (ছাত্রীর বাবা) বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে ছিলেন বাড়িতে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুজন তাঁর সাত-আটজন সহযোগী নিয়ে তাঁর (ছাত্রীর বাবা) বাড়িতে হানা দেন। প্রথমে তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন। এরপর ঘরের বেড়া ও মালপত্র ভাঙচুর করে কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে যান।

কলেজছাত্রীর মা বলেন, “মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার সময় সুজন হুমকি দেয়, ‘যদি মামলা করিস তাহলে তোদের কুপিয়ে মেরে ফেলব। আমার নামে থানায় এ রকম বহু মামলা আছে। পুলিশ আমার কিছুই করতে পারবে না।’ সেই ভয়ে আমরা পুলিশকে বলিনি।”

শরণখোলা থানার ওসি এস কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে কলেজছাত্রীকে তুলে নেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান শুরু করে। অপহরণকারীরা অভিযানের খবর পেয়ে কলেজছাত্রীকে উপজেলার বানিয়াখালী এলাকায় ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। তাঁকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, ‘ওই ছাত্রীর বাবার কাছ থেকে ঘটনা শুনে আমি তাঁকে পুলিশের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা