kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

একজন করে পরীক্ষা দিয়েও ৯ মাদরাসার সবাই ফেল

৪৮ মাদরাসা, ৫০ কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও ৬ স্কুলের কেউ পাস করেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করতে পারেনি, অর্থাৎ শতভাগ ফেল করেছে। তবে এর মধ্যে ৯টি মাদরাসায় একজন করে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে, যা বিস্ময়কর বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ ছাড়া ৪৮টি মাদরাসা, ৫০টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও ছয়টি স্কুলের কেউ পাস করেনি।

এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮২.৮৭ শতাংশ। তবে মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় দুই লাখ ৭৬ হাজার ৮১৫ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে দুই লাখ ২৮ হাজার ৪১০ জন। পাসের হার ৮২.৫১ শতাংশ। অথচ গত বছর এই হার ছিল ৮৩.০৩ শতাংশ। এবার মাদরাসা বোর্ডে জিপিএ ৫ পেয়েছে সাত হাজার ৫১৬ জন। জিপিএ ৫ প্রাপ্তির হার মাত্র ২.৭২ শতাংশ। হারের দিক দিয়ে তা এবার সর্বনিম্ন।

মাদরাসা বোর্ডের পাসের হার দিন দিন কমছে। ২০১৫ সালে এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৮.২২ শতাংশ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর (মাদরাসা) প্রতি বোর্ড ও অধিদপ্তরের নজরদারির অভাবে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। মাদরাসা বোর্ডে গত বছর চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক কায়সার আহমেদ। তিনি কর্মদক্ষ নন বলে অভিযোগ। মাদরাসার মানোন্নয়ন ও বোর্ডের কাজের সঙ্গে তালও মেলাতে পারছেন না।

কারিগরি বোর্ডেরও ৫০টি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করার পেছনে রয়েছে বোর্ড কর্মকর্তাদের অদক্ষতা। এই বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. মোরাদ হোসেন মোল্লার দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল কিছুই না থাকার পরও একের পর এক প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি প্রমাণ হওয়ার পরও বহাল তবিয়তে আছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। প্রতিষ্ঠানগুলোর পড়ালেখার খোঁজখবর নেওয়ার সময় নেই বোর্ড কর্মকর্তাদের।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবার ঠাকুরগাঁওয়ের গেদুরা ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় দাখিল মাদরাসা থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সে ফেল করে। একই জেলার রাণীশংকৈলের সিএস দাখিল মাদরাসা, দিনাজপুরের খানসামার মারগাঁও ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, জামালপুরের সূর্যনগর বসুন্ধরা আদর্শ মাদরাসা, মুক্তাগাছা বিন্যাকুড়ি দাখিল মাদরাসা, পটুয়াখালীর বেগম রাবেয়া ইয়াছিন বালিকা দাখিল মাদরাসা, নাটোরের শেখপাড়া দাখিল মাদরাসা থেকে একজন করে পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও ফেল করে।

মন্তব্য