kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

বেশি ভাড়া আদায় চলছেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেশি ভাড়া আদায় চলছেই

সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতে শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার প্রবণতা নেই। মাস্কও পরেনি বেশির ভাগ যাত্রী। ছবি : কালের কণ্ঠ

গত সোমবার থেকে বাস ও লঞ্চ চলাচল শুরু করেছে। বাস, লঞ্চ চলাচল শুরুর আগে সরকার বাসের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহনের বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করে। কিন্তু অনেক স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। কোথাও আবার যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ও লঞ্চকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ : 

বগুড়া থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, নওগাঁ থেকে ঢাকা পর্যন্ত নতুন বর্ধিত ভাড়া ৬৪০ টাকা। কিন্তু আদায় করা হয়েছে ৮০০ টাকা। সরকার নির্ধারিত ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অমান্য করে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করায় বগুড়ায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের সুপারভাইজরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বগুড়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জি এম রাশেদুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ জরিমানা করেন।

জি এম রাশেদুল ইসলাম জানান, দূরপাল্লার বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে কি না তা দেখতে শহরের ছিলিমপুর এলাকায় বাইপাস সড়কে আদালত বসানো হয়। নওগাঁ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থামানো হয়। এরপর বাসটির যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিট নিয়ে দেখা যায় তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। নওগাঁ থেকে ঢাকার ভাড়া আগে ছিল ৪০০ টাকা। ৬০ শতাংশ বাড়ানোর ফলে এখন ৬৪০ টাকা নেওয়ার কথা। কিন্তু একজন যাত্রীর টিকিটে দেখা গেছে, তাঁর কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ৮০০ টাকা। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করায় শ্যামলী পরিবহনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীর গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে না। কিছু বাসে যাত্রী কম থাকলেও অনেক বাসে ঠাসাঠাসি করে যাত্রী তুলতে দেখা গেছে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দিতে মহানগর ট্রাফিক পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাদাভাবে অভিযান পরিচালনা করছেন।

গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কোতোয়ালি মোড়ে একটি যাত্রীবাহী বাসে হেলপারের হাতে একটি হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বোতল। কিন্তু যাত্রী তোলার সময় তিনি সেটি ব্যবহার করছেন না। জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম নামের ওই হেলপার বলেন, ‘যাত্রীরা যেভাবে দ্রুত উঠছে, তাতে স্যানিটাইজার দেওয়ার সময় নাই। আমরা তো সরকারি নির্দেশনা অনুসারে স্যানিটাইজার রেখেছি। যাত্রীরা সচেতন নন।’

ওই সময় একজন যাত্রী বলে ওঠেন, ‘আমি বাসে উঠার সময় ভিড় ছিল না। তখনো স্যানিটাইজার দেওয়া হয়নি। বসার সিটে একটু স্প্রে করতে বললাম, সেটাও করা হয়নি। বোতলটি প্রদর্শন করা হচ্ছে, ব্যবহার করা হচ্ছে না।’

গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি অমান্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর পুলিশের ট্রাফিক উত্তর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, গণপরিবহন চালুর দিন থেকে ট্রাফিক পুলিশ কড়াকড়ি আরোপ করেছে। স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করার প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলা করা হচ্ছে। গত সোমবার ১১৯টি মামলা দেওয়া হয়। ৩৬টি যানবাহন আটক করা হয়। আর জরিমানা করা হয় পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা। গতকাল মঙ্গলবারও এই অভিযান চলমান ছিল।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তার বলেন, সোমবার থেকেই অভিযান শুরু হয়েছে। নগরীর বাসস্ট্যান্ডগুলোয় অভিযান চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মুন্সীগঞ্জ থেকে প্রতিনিধি জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ৯টি লঞ্চকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে লৌহজং থানা ও মাওয়া নৌ পুলিশের যৌথ অভিযানে লঞ্চগুলো আটক করা হয়।

মাওয়া নৌ পুলিশের আইসি পরিদর্শক সিরাজুল কবির জানান, গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থানা ও নৌ পুলিশ যৌথ অভিযান চালায় এ নৌ রুটে। শিমুলিয়া ঘাট থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু কাঁঠালবাড়ী ঘাটে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। সেখান থেকে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে আসছে। পুলিশের যৌথ অভিযানে এ রকম ৯টি লঞ্চ আটক করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা