kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

পুলিশের শৃঙ্খলায় নতুন মাত্রা

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সারা দেশে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। মারাত্মক এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় লাগাম টানতে পুলিশ সদস্যদের জীবনাচরণে আনা হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন। পুলিশ সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে আনা এ পরিবর্তনের ফলে দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটির সদস্যদের শৃঙ্খলায় যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। এমনটাই অভিমত সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সোহেল রানার।

তিনি বলেন, মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের নির্দেশনায় করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সুচিকিৎসা ও সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। এরই ফলে করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সুস্থতার হার একদিকে যেমন বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে নতুন করে সংক্রমণের সংখ্যা।

এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা পাঁচ হাজার ১২৯। এর মধ্যে সুচিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৮৭৬ জন। এর মধ্যে গতকাল রবিবার সুস্থ হন ১৫৩ জন। চলমান করোনা-যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন পুলিশের ১৫ জন সদস্য।

পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, জনগণকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে শুরু থেকেই সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন পুলিশ সদস্যরা। ফলে একক পেশা হিসেবে সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা। কোনো প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই জনগণকে ঘরে রাখা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, কোয়ারেন্টিনে পাঠানো, ত্রাণ দেওয়া, চেকপোস্ট তল্লাশিসহ বহুমুখী জনকল্যাণকর কাজে জনগণের সঙ্গে মিশে যান পুলিশ সদস্যরা। ফলে ব্যাপকভাবে তাঁরা করোনায় আক্রান্ত হতে থাকেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের প্রণয়ন করা নকশা মোতাবেক পুলিশ ব্যারাকের জন্য কিছু নতুন পরিকল্পনা করা হয়েছে উল্লেখ করে সূত্র জানায়, ব্যারাকের বিছানাগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত বিছানা, আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের জন্য আলাদা ব্যারাক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বাইরে প্রত্যেক পুলিশ সদস্য যাতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসহ ডিউটিতে যান তা কঠোরভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।

সূত্র মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গঠিত ডিএমপির কমিটি নিয়মিত ব্যারাক পরিদর্শনসহ থানার প্রত্যেক সদস্যকে স্বাস্থ্যসচেতন করে তোলার কাজ করছে। প্রতিদিন ডিউটি শেষে পরিধেয় পিপিই, ইউনিফর্ম, গ্লাভস, মাস্কসহ অন্যান্য উপকরণ যাতে ডেটল, স্যাভলন বা সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা হয়, সেটি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু থানার মেসের পরিবেশই উন্নত করা হয়নি, থানার প্রবেশদ্বারে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন থানা প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে চলছে বহুমুখী কর্মসূচি। যেমন সুষম ও পুষ্টিকর খাবার, মৌসুমি ফলমূল ও ইমিউনিটি বাড়াতে সহায়তা করে এমন ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চলছে শরীরচর্চা।

তাঁরা বলছেন, আক্রান্তদের মনোবল বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। থানায় কর্মরতদের দুটি গ্রুপে ভাগ করে প্রতিটি গ্রুপকে টানা এক সপ্তাহ ডিউটি শেষে এক সপ্তাহ বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে। এভাবে বিশ্রাম পাওয়ায় তাঁরা মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকছেন।

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. ওয়ালিদ হোসেন বলেন, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের নির্দেশনায় রাজারবাগ পুলিশলাইনসে পুলিশ সদস্যদের শরীরচর্চা অনুশীলন শুরু হয়েছে। শরীরচর্চার পাশাপাশি করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়ায় ক্রমাগত সুস্থ হওয়ার তালিকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যেভাবে করোনামুক্ত নিউ মার্কেট থানা ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক হাজার ৬৫৮ জন। রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, রমনা বিভাগের মধ্যে নিউ মার্কেট থানাধীন ধানমণ্ডি পূর্ব ফাঁড়ির এক সদস্য গত এপ্রিলের শুরুতে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এরপর নিউ মার্কেট থানার দুজন আক্রান্ত হন। এভাবে একে একে থানার ৩২ জন আক্রান্ত হন। তবে ভালো খবর হলো, ৩০ জন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। বাকি দুজনের অবস্থাও ভালো।

সূত্র বলছে, গত এক মাসে নিউ মার্কেট থানার কোনো সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়নি। কারণ, আক্রান্তের শুরুতেই সব সদস্যকে সরিয়ে বিভিন্ন হোটেলে আলাদা কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। ডিএমপির লজিস্টিকস বিভাগের সহায়তায় পুরো থানা জীবাণুমুক্ত করা হয়। পর্যায়ক্রমে থানায় কর্মরত সব পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যদের পরীক্ষা করা হয়। আক্রান্ত হওয়া সদস্যদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এভাবেই নিউ মার্কেট থানা-পুলিশ করোনামুক্ত হয়ে অনেকটা স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরেছে। এখন ডিএমপির ৫২ থানা-পুলিশ নিউ মার্কেট থানাকে মডেল হিসেবে সামনে রেখে করোনামুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করছে পুলিশ হাসপাতাল। এ ছাড়া রাজধানীর বেসরকারি ইমপালস হাসপাতাল ভাড়া নিয়ে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা