kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

আম্ফানে জলাবদ্ধতা

কয়রায় দুর্গন্ধে টেকা দায় ছড়াচ্ছে রোগ

কৌশিক দে, খুলনা   

২ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কয়রায় দুর্গন্ধে টেকা দায় ছড়াচ্ছে রোগ

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে খুলনার কয়রার অনেক গ্রামে। নোনা পানিতে মাছ, জলজ প্রাণী মরে-পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, পাল্টে গেছে পানির রং। ছবিটি গত রবিবার তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘পচা-দুর্গন্ধে ঘরে বসে থাকাও কষ্টসাধ্য। নোনা পানিতে হাঁটতে হচ্ছে। মাছ, জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠছে। পানির রং পাল্টে গেছে। জানি না এ দুর্ভোগ কোথায় শেষ হবে। ঠিকমতো খাবার খেতে পারছি না। সব মিলে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। আম্ফানে বাঁধ গেছে, এখন তো জীবন যায় যায় অবস্থা।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন খুলনার উপকূলীয় কয়রা উপজেলার মদিনাবাদ এলাকার বাসিন্দা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান সানা।

শুধু মিজানুর রহমান সানাই নন, কয়রায় এখন নতুন সমস্যা জলাবদ্ধতা, পুতি দুর্গন্ধময় পরিবেশ। নোনা পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে উপজেলা সদর, উত্তর বেদকাশি, দক্ষিণ বেদকাশি ও মহারাজপুর ইউনিয়নের গ্রামগুলো। মরে ভেসে উঠছে মাছ, জলজ প্রাণী পাশাপাশি হাঁস, মুরগি, গবাদি পশু মরার কারণে পানি কালো রং ধারণ করেছে, হয়ে উঠেছে বিষাক্ত, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এসব এলাকার মানুষকে এ পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে করে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

কয়রা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হারুনুর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অতীতের সব প্রাকৃতিক দুর্যোগকে হার মানিয়ে উপকূলবাসীকে সর্বহারা করে দিয়েছে আম্ফান। মানুষ বেড়ি বাঁধ দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তার মধ্যে ২০টির মতো এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। দুর্গন্ধে ওই এলাকায় চলাচল করা যায় না। মানুষ শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে।’ তিনি বলছিলেন, পানি সরে যেতে আরো অন্তত দুই সপ্তাহ লেগে যাবে।

কয়রা গ্রামের সাবিনা খাতুন বলছিলেন, ‘চারপাশে পানি, খাওয়াদাওয়ার কষ্ট। ইয়ার মধ্যে ছাওয়ালটার তিন দিন পাতলা পায়খানা। পানিতে ডাক্তারও ডাকপার পাই না, চিকিৎসা করি কেন করি।’ ১ নম্বর কয়রা গ্রামের রসুল ঢালী জানান, চারদিকে পচা দুর্গন্ধ পানি থাকায় মানুষ ঘরে ঢুকলে আর বের হতে চায় না।

উত্তর বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম জানান, দুর্গন্ধের এ সমস্যার বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ অধিদপ্তর কোনো খোঁজখবর নেয়নি। ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে বিষাক্ত পানির কারণে বিভিন্ন রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার পাল সাংবাদিকদের বলেন, সংকট সমাধানে কাজ করা হচ্ছে। তাঁরা এর মধ্যে সোয়া লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা