kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

করোনায় মৃতদের দাফনকারী সেই রফিক ভাইও নেই

৯ জেলায় উপসর্গ নিয়ে শিক্ষক ব্যবসায়ীসহ ১২ জনের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় মৃতদের দাফনকারী সেই রফিক ভাইও নেই

শেষ পর্যন্ত ‘করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯)’ কাছে হার মানলেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সেই রফিক ভাইও; যিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া অন্তত ১০ জনের দাফন-কাফনে অংশ নিয়ে জেলায় প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। গতকাল রবিবার হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার বিলবাড়িয়ায় নিজ বাড়িতে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। একই দিন চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা গেছেন দুজন। তাঁদের বাড়িও হাজীগঞ্জে।

আরো আট জেলায় গত শনিবার দিবাগত রাতে ও গতকাল করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

চাঁদপুর : হাজীগঞ্জ বাজারে সাইমুম টেইলার্সের মালিক রফিকুল ইসলাম (৪৫)। নানা সামাজিক কাজ করতে গিয়ে তিনি ‘রফিক ভাই’ নামে পরিচিতি পান। এই করোনাকালে মৃতদের দাফন-কাফনের জন্য ১১ জনের স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করেন তিনি। গত শনিবার তিনি হাজীগঞ্জ বাজারে এক ছেলে নিয়ে গিয়ে অনেকের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের কাছে নিজের শ্বাসকষ্টসহ অসুস্থতার কথা জানিয়ে দোয়া চান। গতকাল দুপুরে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁকে দাফন করা হয়।

স্থানীয় সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সিফাত কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, স্বেচ্ছাসেবী দলটি গঠনে তিনিও রফিক ‘ভাইকে’ সহযোগিতা করেন। প্রিয় মানুষটির মৃত্যুর সংবাদে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এদিকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে গতকাল কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যাওয়া দুজনের মধ্যে এক ব্যক্তির (৬০) বাড়ি হাজীগঞ্জের সাতবাড়িয়া গ্রামে এবং অন্য ব্যক্তির (৫৬) বাড়ি হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার মকিমাবাদে।

মাদারীপুর : গতকাল সকালে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা এক যুবকের (২২) মৃত্যু হয়। সদর উপজেলার কেন্দুয়া এলাকার এই যুবক শনিবার করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছিলেন।

টঙ্গী : গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়ার সুর তরঙ্গ রোডে নিজ বাসভবনে শনিবার দিবাগত রাতে মারা গেছেন টঙ্গী সিরাজ উদ্দিন সরকার স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক জ্যেষ্ঠ প্রভাষক। কলেজের উপাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান জানান, পাঁচ-ছয় দিন ধরে তিনি জ্বর, ঠাণ্ডা-কাশি ও গলা ব্যথায় ভুগছিলেন। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি নিজ বাসভবনে অবস্থান করে জ্বরের প্রচলিত ওষুধ খাচ্ছিলেন। শনিবার রাতে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর তাঁর মৃত্যু হয়। গতকাল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কছিম উদ্দিন ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে লাশ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি রূপগঞ্জে নেওয়া হয়।

কিশোরগঞ্জ : শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা (করোনা উপসর্গ নিয়ে) এক ব্যবসায়ী (৬৬) গতকাল সকালে মারা গেছেন। তিনি তাড়াইল সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও তাড়াইল বাজারের ব্যবসায়ী।

ফেনী : গত শনিবার ফেনী সদর উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়। তাঁদের একজন (৬২) ফেনী জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে মারা যান। তিনি উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। একই দিন আলিপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা (৮০) ডায়রিয়া নিয়ে আসেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

রাজবাড়ী : বালিয়াকান্দির নিজ বাড়িতে শনিবার রাতে জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে এক ব্যক্তির (৪৫) মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি উপজেলার বেরুলী গ্রামে।

সৈয়দপুর : জ্বর, সর্দি-কাশিতে ভুগে গতকাল বিকেলে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। উপজেলা শহরের নয়াটোলা এলাকার নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : করোনা উপসর্গ নিয়ে শনিবার দুপুরে আখাউড়া পৌর এলাকার নারায়ণপুরের এক ব্যক্তির (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। পরিবার জানিয়েছে, করোনা উপসর্গ থাকায় হাসপাতালে নেওয়ার পরও তাঁকে চিকিৎপা দেওয়া হয়নি।

মৃতের আত্মীয়রা জানায়, ওই ব্যক্তি চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরি করতেন। ২৭ মে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। করোনা আতঙ্কে সেখানে চিকিৎপা দিতে না চাইলে তাঁকে নেওয়া হয় ঢাকার আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে করোনার নমুনা সংগ্রহ করে জানানো হয় এর রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত চিকিৎপা করা যাবে না। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

রাঙামাটি : রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার নিজ বাড়িতে গতকাল বিকেলে জ্বর নিয়ে এক স্বাস্থ্যকর্মীর (২৬) মৃত্যু হয়েছে। তিনি রাইখালী ইউনিয়নের পূর্ব কোদালা গ্রামের বাসিন্দা ও চট্টগ্রামের রয়েল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স।

রয়েল হাসপাতালের নার্সদের ইনচার্জ আশীষ দাশ জানিয়েছেন, ওই স্বাস্থ্যকর্মী ১০-১২ দিন আগে থেকে জ্বর নিয়ে কষ্ট পাচ্ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা