kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

মানের বালাই নেই

ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার

আসল বোতলে নকলও থাকছে

ওমর ফারুক   

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার

রাজধানীর ফুটপাতে এভাবে বিক্রি হচ্ছে মানহীন হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন সামগ্রী। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনাভাইরাস রোধে হ্যান্ড স্যানিটাইজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আর সেই স্যানিটাইজার এখন ফুটপাতেও বিক্রি হচ্ছে। মানহীন এসব স্যানিটাইজার কোনো প্রশ্ন না করে কিনেও নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে তাতে করোনা প্রতিরোধে কতটা কাজ হচ্ছে তার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনো কোনো অসাধু দোকানি আসল হ্যান্ড স্যানিটাইজার বোতল সংগ্রহ করে তাতে নকল স্যানিটাইজার ভরে বিক্রি করছেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানের ফুটপাতে বেশ কটি দোকানে হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিক্রি করতে দেখা যায়। একটি দোকানের মালিক জানান, তাঁর কাছে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা দামের হ্যান্ড স্যানিটাইজার রয়েছে। তিনি একটি বড় বোতল দেখিয়ে এর দাম চান ২০০ টাকা। আরেকটি বোতলে স্প্রে করার ব্যবস্থা রয়েছে। এটির দাম চান ১৮০ টাকা। দেখা যায় অনেকে তাঁর কাছ থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনছেন।

দোকানটিতে আরো বিক্রি করা হচ্ছে পিপিই, বিভিন্ন ধরনের মাস্ক, চশমাসহ করোনা রোধের জিনিসপত্র। জানতে চাইলে বিক্রেতা বলেন, এসব স্যানিটাইজার শতভাগ ভালো। তিনি এগুলো মানসম্মত দোকান থেকে কিনে এনে বিক্রি করছেন। ‘কোনো ধরনের সন্দেহ নেই।’

ফুটপাতে বিক্রেতারা তাঁদের পণ্যে শতভাগ কার্যকর বলে দাবি করলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক অসাধু দোকানি ব্র্যান্ডের স্যানিটাইজার বোতল সংগ্রহ করে তাতে নকল স্যানিটাইজার রিফিল করে ফুটপাতে বিক্রি করছেন।

রসায়নবিদরা জানিয়েছেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরিতে ইথানল ও প্রোপানল ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া অ্যালকোহল, অ্যালোভেরা অয়েল, গ্লিসারিনসহ নানা রাসায়নিক দ্রব্য থাকে। মানব ত্বকের সহনশীল মাত্রা অনুযায়ী এগুলো ব্যবহার করতে হয়। ল্যাবে পরিমাণ মতো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করতে হয়। উপকরণ কম-বেশি হলে ত্বকের ক্ষতি হবে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় এই ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য শরীরে ব্যবহারের ফলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কী ধরনের জিনিস দিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানাচ্ছে সেটি পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যদি মিথানল দিয়ে বানায় তাহলে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি হবে। আর যদি সাবান ও পানি দিয়ে বানানো হয় তাহলে ক্ষতি না হলেও মানুষকে ঠকানো হলো। এ কারণে ফুটপাতে যেসব স্যানিটাইজার বিক্রি হচ্ছে সেগুলো দ্রুত পরীক্ষা করে দেখা উচিত।’

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) গণমাধ্যম শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যবহৃত পিপিই, মাস্ক সংগ্রহ করে বিক্রি করার অপরাধে কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। তার পরও কিছু কিছু লোক এসব ব্যবসা করে যাচ্ছেন বলে আমাদের কানে আসছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি নকল স্যানিটাইজার এবং ব্র্যান্ডের স্যানিটাইজার বোতল সংগ্রহ করে সেগুলোতে নকল স্যানিটাইজার বিক্রি করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে আমরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছি। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর জীবাণুনাশক সামগ্রীর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এসব সামগ্রী বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় কম্পানিগুলো হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সুযোগে একদল অসাধু ব্যবসায়ী নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছে।

মন্তব্য