kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

করোনা উপসর্গ

কচুয়ায় ১১ দিনে ছেলে বাবা ও মায়ের মৃত্যু

৯ জেলায় ১০ জনের প্রাণহানি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



চাঁদপুরের কচুয়ার গোইট উত্তর ইউনিয়নের পালগিরী গ্রামের এক ব্যক্তি চাকরি করতেন ঢাকার একটি প্রাইভেট কম্পানিতে। গ্রামের বাড়িতে থাকেন তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবা। দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফেরেন স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়েকে নিয়ে। গত ১৫ মে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৯ মে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর নমুনা পরীক্ষা করলে করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে। তাঁর মৃত্যুর ৯ দিন পর (২৮ মে) করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় বাবার। এর দুই দিন পর গতকাল একই উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর মায়ের।

আরো আট জেলায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ও গতকাল করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে নয়জনের। আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

কচুয়া : পালগিরী গ্রামে গতকাল দুপুরে মৃত নারীর বয়স ৭০ বছর। তাঁর স্বামী ও ছেলের বয়স যথাক্রমে ৮০ ও ৫০ বছর। তাঁদের পাশাপাশি কবরে সমাহিত করা হয়েছে। এক পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. মো. সালাহ উদ্দিন মাহমুদ জানান, গতকাল সকালে পারিবারিক সূত্রে ওই নারীর অসুস্থতার খবর পেয়ে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সযোগে তাঁকে ঢাকায় আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়ার পথে গৌরীপুর এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর ছেলের স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়েও করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে।

সাতক্ষীরা : করোনা উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন এক ব্যবসায়ী গতকাল সকালে ও শুক্রবার রাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। ব্যবসায়ীর (৬৫) বাড়ি তালা উপজেলার মাঝিয়াড়া গ্রামে আর কৃষকের (৩৫) বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের কাথণ্ডা গ্রামে। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ডা. জয়ন্ত সরকার জানান, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত বুধবার সকালে কৃষক ও বৃহস্পতিবার সকালে ব্যবসায়ী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এ দুই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তির পরপরই তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

জামালপুর : বকশীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নামাপাড়া গ্রামে গতকাল ভোরে করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকাফেরত এক তরুণের (১৮) মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বাড়ি লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশ জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে। বকশীগঞ্জ হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই তরুণ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে শ্রম খেটে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত সোমবার তিনি ঢাকা থেকে বাড়িতে চলে আসেন। পরে শ্বাসকষ্ট আরো বাড়লে বৃহস্পতিবার সকালে বকশীগঞ্জ হাসপাতালে যান তিনি। চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করে উপসর্গ গুরুতর হওয়ায় জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তির জন্য রেফার্ড করেন। একই সঙ্গে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠান। সূত্র মতে, ওই তরুণ জামালপুর হাসপাতালে রেফার্ডের বিষয়টি গোপন করে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।

কিশোরগঞ্জ : হোসেনপুরে শুক্রবার রাতে এক (১৬) মাদ্রাসাছাত্রের (১৬) মৃত্যু হয়। তার বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ পুমদী গ্রামে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. নাসিরুজ্জামান জানান, ওই কিশোর করোনা উপসর্গ নিয়ে শুক্রবার সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে তার পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করে সেখান থেকে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। বাড়ি ফেরার পথে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়। তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরিবার জানায়, ছাত্রটি কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে জানাজা শেষে এলাকার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

দিনাজপুর : করোনা উপসর্গ নিয়ে তিন দিন আগে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ফুলবাড়ী উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের এক বৃদ্ধ (৭০)। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এদিন রাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ বাড়ি মালিপাড়া গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ ও বাড়িটি লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শেরপুর : গতকাল সকালে শেরপুর সদর উপজেলার ইমামবাড়ী এলাকার নিজ বাড়িতে সর্দি-জ্বর ও শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির (৭০)। তিনি নারায়ণগঞ্জে বাসাবাড়িতে গৃহকর্মে নিয়োজিত ছিলেন। গত বুধবার তিনি সেখান থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরেছিলেন। করোনা ফোকাল পারসন শেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোবারক হোসেন জানান, মৃতের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

খুলনা : খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকাল ৭টার দিকে মৃত্যু হয়েছে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (মেডিসিন) ও আইসোলেশন ওয়ার্ডের মুখপাত্র ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই ব্যক্তি জ্বর ও সর্দি-কাশি নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। শুক্রবার তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। মৃতের ভাতিজা জানান, তাঁর চাচা ১০-১১ দিন আগে জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হন।

চরফ্যাশন : ভোলার চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গতকাল সকালে করোনার উপসর্গ নিয়ে এক পল্লী চিকিৎসকের (৬০) মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন কুমার বসাক জানান, ওই ব্যক্তির সর্দি-কাশি ও জ্বর থাকায় করোনা সন্দেহে তিন দিন আগে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

টঙ্গী : গাজীপুরের টঙ্গীতে গতকাল সন্ধ্যায় করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের এক সহকারী অধ্যাপকের। পরিবার জানায়, কয়েক দিন ধরে তিনি সর্দি ও জ্বরে ভুগছিলেন। সাধারণ জ্বর মনে করে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হননি। টঙ্গী ভরান এলাকার নিজ বাড়িতে অবস্থান করে ওষুধ খাচ্ছিলেন। গতকাল বিকেল থেকে তাঁর প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। পরে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁর প্রতিবেশী টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র আজমত উল্লা খান জানান, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দাফনের ব্যাপারে এখনো পরিবার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা