kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

শনাক্ত মৃত্যু সুস্থতায় রেকর্ড ভারতে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



শনাক্ত মৃত্যু সুস্থতায় রেকর্ড ভারতে

ভারতে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৩০ জানুয়ারি। ঠিক চার মাসের মাথায় প্রতিবেশী দেশটিতে এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ঘটেছে রেকর্ড প্রাণহানির ঘটনা। একই দিন প্রাণঘাতী রোগটি থেকে সেরেও উঠেছে সর্বোচ্চসংখ্যক ব্যক্তি। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার এ পরিস্থিতি জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এক দিনে ভারতে শনাক্ত প্রায় সাড়ে সাত হাজার রোগী। এর পরের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে সাত হাজার ৯৬৪ জন। এক দিনে এত লোক এর আগে সংক্রমিত হয়নি। সব মিলিয়ে ভারতে করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৬৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি ও গুজরাটে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বৈশ্বিক আক্রান্তের হিসাবে নবম স্থানে উঠে আসে ভারত।

আক্রান্তের বিচারে শীর্ষ রাজ্য মহারাষ্ট্রেই ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে আরো দুই হাজার ৬৮২ জন। এতে করে সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা হলো ৬২ হাজার ২২৮ জন। আক্রান্তে দ্বিতীয় স্থানে আছে তামিলনাড়ু। এ রাজ্যে কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর পরেই রয়েছে রাজধানী দিল্লি। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৩৮৬ জন। গুজরাটে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৩৪ জন। এরপর ক্রমান্বয়ে আছে রাজস্থান (৮,৩৬৫), মধ্য প্রদেশ (৭,৬৪৫), উত্তর প্রদেশ (৭,২৮৪), পশ্চিমবঙ্গ (৪,৮১৩), অন্ধ্র প্রদেশ (৩,৪৩৬), বিহার (৩,৩৭৬), কর্ণাটক (২,৭৮১), তেলেঙ্গানা (২,৪২৫), পাঞ্জাব (২,১৯৭), জম্মু-কাশ্মীর (২,১৬৪), ওড়িশা (১,৭২৩), হরিয়ানা (১,৭২১) ও কেরালা (১,১৫০)।

দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, ২৪ ঘণ্টায় ভারতে মৃত্যু হয়েছে ২৬৫ জনের, যা এক দিনে মৃত্যুর নিরিখে রেকর্ড। এই নিয়ে প্রতিবেশী দেশটিতে করোনায় প্রাণ হারাল চার হাজার ৯৭১ জন। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রেই মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৯৮ জনের। ৯৮০ জন মারা গেছে গুজরাটে, দিল্লিতে ৩৯৮ জন। মধ্য প্রদেশে মৃতের সংখ্যা ৩৩০, পশ্চিমবঙ্গে ৩০২। শতাধিক মৃত্যুর তালিকায় আছে উত্তর প্রদেশ (২০১), রাজস্থান (১৮৪) ও তামিলনাড়ু (১৫৪)।

অবশ্য এত এত আক্রান্ত আর প্রাণহানির মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবরও মিলেছে। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ১১ হাজারেরও বেশি রোগী, যা সুস্থ হওয়ার নিরিখেও এখন পর্যন্ত রেকর্ড। সব মিলিয়ে ভারতে এখন পর্যন্ত ৮২ হাজারের বেশি মানুষ সেরে উঠেছে।

এদিকে ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এর বাইরে রাখা হয়েছে কনটেনমেন্ট জোনকে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কনটেনমেন্ট জোন ছাড়া বাকি সব এলাকায় ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হবে সব কিছু। কনটেনমেন্ট জোনে লকডাউন চলবে অন্তত ৩০ জুন পর্যন্ত।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামীকাল থেকে রাতের কারফিউ কমছে। সন্ধ্যা ৭টার বদলে কারফিউ শুরু হবে রাত ৯টায়। চলবে ভোর ৫টা পর্যন্ত। প্রথম ধাপে কনটেনমেন্ট জোনের বাইরে ৮ জুন থেকে খোলা যাবে ধর্মীয় স্থান, বেসরকারি অফিস, হোটেল-রেস্তোরাঁ, শপিং মল। তবে সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে চলতে হবে কঠোরভাবে।

বৈশ্বিক আক্রান্ত ৬০ লাখ পেরোল : বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারে উপাত্ত বলছে, প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ লাখ ৮৬ হাজার ৫১০ জনে। এ সময়ে মারা গেছে তিন লাখ ৬৮ হাজার ৪৭২ জন। আর সুস্থ হয়েছে ২৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩১১ জন।

মৃত্যুতে স্পেনকে ছাড়াল ব্রাজিল : ব্রাজিলে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে শুক্রবার ২৭ হাজার ৮৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে করে করোনায় অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ স্পেনকে টপকে মৃত্যুতে পঞ্চম স্থানে উঠে এলো লাতিন আমেরিকার দেশটি। বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর দিক থেকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম, ব্রিটেন দ্বিতীয়, ইতালি তৃতীয় এবং ফ্রান্স চতুর্থ স্থানে আছে।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় কভিড-১৯ ভাইরাসে নতুন করে আরো এক হাজার ১২৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ২৬ হাজার ৯২৮ জনের করোনার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এ নিয়ে ব্রাজিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চার লাখ ৬৫ হাজার ১৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার পর্যন্ত স্পেনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে মোট ২৭ হাজার ১২১ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রাণহানির সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। আর ব্রাজিলে কভিড-১৯ ভাইরাসে প্রতিদিন যে হারে মানুষ মারা যাচ্ছে তাতে শিগগিরই দেশটি ফ্রান্সকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ পর্যন্ত ফ্রান্সে করোনাভাইরাসে ২৮ হাজার ৭১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।

ডাব্লিউএইচওর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা ট্রাম্পের : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) সঙ্গে তার দেশের সম্পর্কের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, নতুন করোনাভাইরাস নিয়ে চীনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারেনি ডাব্লিউএইচও। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে ট্রাম্প এ অভিযোগ করেন। তাঁর কথায়, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পুরোপুরি চীনের নিয়ন্ত্রণে।’

ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন এখন থেকে ডাব্লিউএইচওর বদলে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও দাতব্য সংস্থাকে অর্থ দেবে।

ডাব্লিউএইচওকে এত দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বেশি অর্থ দিত। গত বছর দেশটির সাহায্যের পরিমাণ ছিল ৪০ কোটি ডলারের বেশি। ট্রাম্প ঘোষণা দিলেও ডাব্লিউএইচওর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কচ্ছেদ কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে, তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র এক বছরের নোটিশ দিয়ে ডাব্লিউএইচওর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারবে বলে ১৯৪৮ সালে মার্কিন কংগ্রেসের এক যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছিল।

ইরানে মসজিদে নামাজ শুরুর ঘোষণা : ইরানজুড়ে মসজিদগুলোতে ফের নামাজ পড়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে দেওয়া ঘোষণায় রুহানি বলেন, প্রাত্যহিক নামাজের জন্য দেশজুড়ে মসজিদের দরজাগুলো সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে কবে নাগাদ মসজিগুলো খোলা হচ্ছে তা জানাননি। শপিং মলগুলো খোলা রাখার সময়সীমাও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কাল থেকে তুরস্কে লকডাউন শিথিল : আগামীকাল সোমবার থেকে লকডাউন শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক সরকার। দেশটির মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান এ ঘোষণা দেন। লকডাউন শিথিল করার অংশ হিসেবে তুরস্কের বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা চালু হবে। এর আগে লকডাউনের কারণে আন্ত প্রাদেশিক যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। লকডাউন শিথিল করলেও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলছেন, কিছু কিছু বিধি-নিষেধ বহাল থাকবে। এর মধ্যে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী লোকজন এবং ১৮ বছরের কম বয়সী লোকজনের চলাচলের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে। সূত্র : আনন্দবাজার, এএফপি, রয়টার্স।

মন্তব্য