kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

বিশেষ লেখা

মনে করুন এটা ১৫ দিনের পরীক্ষা

ফরহাদ হোসেন
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

৩০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মনে করুন এটা ১৫ দিনের পরীক্ষা

আশা করি, আগের মতো এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন সবাই

সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেই সাধারণ ছুটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টানা দুই মাসের বেশি সময় ধরে জরুরি প্রয়োজনের প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের সব কিছু বন্ধ। জনবহুল দেশে এত দীর্ঘ মেয়াদে ‘লকডাউন’ চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন। এর পরও আপামর জনসাধারণ জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে লকডাউনের নিয়ম-কানুন মেনে চলেছেন। এ কারণেই ১৫ দিনের জন্য নতুন নিয়মে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করি, আগের মতো এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন সবাই।

দেশের প্রত্যেকটি মানুষের জীবন সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সরকার সেই চেষ্টা করে। অনেকে সমালোচনা করছেন। যাঁরা সমালোচনা করছেন তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা। তাঁদের কথায়ও অনেক যুক্তি আছে। কিন্তু সরকার নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষের কথায় চলতে পারে না। সরকারকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সীমিত পরিসরে অফিসসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত মূলত সবার বিষয় চিন্তা করেই নেওয়া হয়েছে। জীবন-জীবিকাকে সমন্বয় করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিয়ে যেতেই প্রধানমন্ত্রী এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

করোনা থেকে দেশ কবে মুক্তি পাবে, এটা কেউ বলতে পারেন? তাই অনির্দিষ্টকালের জন্য বসে থাকা যাবে না। কয়েক দিন পর বাজেট পেশ করতে হবে। শুধু ত্রাণের খাবারে মানুষের পেট ভরবে না। তাই লকডাউন কিছুটা শিথিল করা ছাড়া বিকল্প ছিল না।

মনে রাখতে হবে লকডাউন সীমিতভাবে তুলে নেওয়া হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মনে করুন, এটা ১৫ দিনের পরীক্ষা। করোনাকে সঙ্গে নিয়েই জীবন পরিচালনা করতে হবে। সবাইকে মাস্ক পরতে হবে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ঘরে থাকতে হবে। এই সময়ের বাইরে অকারণে বের হওয়া যাবে না। অসুস্থ, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারী বাসায় থেকে অনলাইনে কাজ করবেন।

ইউরোপ, আরব ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড খুলে দিচ্ছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য বছরের এ সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারের হাতে বিকল্প অপশন নেই। স্বাস্থ্যবিধির অভ্যাসগুলো প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। বিশ্বব্যাপী অন্যান্য দেশের নেওয়া পদক্ষেপের তুলনায় বাংলাদেশের সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রশংসা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে। আশা করি, নতুন সিদ্ধান্তও সঠিক প্রমাণিত হবে। আর যদি কোনো কারণে পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয় সে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে। আমাদের বিগত দিনের সিদ্ধান্তগুলো তুলনামূলক ভালো ছিল। এবারের সিদ্ধান্তও ভালো ফল আনবে, এটাই আশা করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা