kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

তিন জেলায় স্পিরিট পানে ২১ জনের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদকে ঘিরে নেশাজাতীয় রেক্টিফায়েড স্পিরিট পানে রংপুর, দিনাজপুর ও বগুড়ায় ২১ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে রংপুরের পীরগঞ্জ ও বদরগঞ্জে ১০ জন, দিনাজপুরের বিরামপুরে ৯ জন এবং বগুড়ার ধুনট উপজেলায় দুজন মারা যান। এ ছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছে অনেকে। গত রবিবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

রংপুর : পীরগঞ্জে মারা যাওয়া সাতজন হলেন আব্দুর রাজ্জাক (৪৫), জাইদুল হক (৩৫), চন্দন কুমার (৩০), সেলিম মিয়া (৫০), দুলা মিয়া (৫২), সেরাজুল মিস্ত্রি (৩৫) ও নওশা (৫৫)। বদরগঞ্জে মারা যাওয়া তিনজনের নাম নুর ইসলাম (৩০), সরোয়ার হোসেন (৩১) ও মোস্তফা কামাল (৩০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জের শানেরহাট বাজারে মদ, স্পিরিটসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য পানের আসর বসত। এ আসরে স্পিরিট পান করেই সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ১০ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেস চন্দ্র জানান, এ বিষয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। মাদকের উৎস ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খোঁজা হচ্ছে।

অন্যদিকে ঈদকে ঘিরে সোমবার বদরগঞ্জের শ্যামপুর বাজার এলাকায় স্পিরিট পান করে কয়েকজন। একপর্যায়ে তাঁরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানেই তিনজন মারা যান।

বিরামপুর (দিনাজপুর) : বিরামপুরে মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও মঞ্জুয়ারা (৩৫) স্বামী-স্ত্রী। বাকিরা হলেন আব্দুল মতিন (২৭), আজিজুল ইসলাম (৩৩), মহসিন আলী (৩৮), অমৃত রায় (২৫), সোহেল রানা (৩০), মনোয়ার হোসেন (৪২) এবং আব্দুল আলিম (৪০)। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় পুলিশ ওই এলাকার ‘পল্লী হোমিও হলে’র স্বত্বাধিকারী ডা. আব্দুল মান্নানকে আটক করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছে বলে জানিয়েছেন বিরামপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন সরকার। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পল্লী হোমিও হলসহ শহরের বেশ কিছু হোমিও চিকিৎসালয়ে স্পিরিটের ব্যবসা চলছিল। গতকাল দুপুরে উপজেলা প্রসাশন ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর শহরের ‘সরকার হোমিও হল’ নামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে দুই হাজারের বেশি রেক্টিফায়েড স্পিরিটের বোতল উদ্ধার করেছে।

ধুনট (বগুড়া) : ধুনটে স্পিরিট পানে মারা যাওয়া দুজন হলেন ঈশ্বরঘাট গ্রামের অটোরিকশাচালক আব্দুল আলিম (৩০) এবং মাংস ব্যবসায়ী আল-আমিন (২৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যার দিকে গ্রামের রাস্তায় বসে স্পিরিট পান করেন আব্দুল আলিম ও আল আমিন। এরপর দুজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে আল আমিন রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান। পরে রাত ৩টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল আলিম মারা যান। ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, ওই দুজন স্পিরিট কোন জায়গা থেকে কিনে সেবন করেছেন তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা