kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

রবিবার খুলছে পুঁজিবাজার

রফিকুল ইসলাম   

২৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রবিবার খুলছে পুঁজিবাজার

করোনার কারণে পুঁজিবাজার বন্ধ প্রায় দুই মাস। এর ফলে একদিকে আটকে পড়ে মূলধন, অন্যদিকে কমে যায় শেয়ারের দাম। কমে যায় বিনিয়োগকারীর মূলধনও। তবে এসব শঙ্কা কাটিয়ে আগামী রবিবার ফের খুলছে পুঁজিবাজার। ওই দিন থেকে লেনদেন শুরু হবে পুঁজিবাজারে। সরকারের বেঁধে দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সব ধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত করে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ডিএসইর লেনদেন কার্যক্রম, ক্লিয়ারিং হাউসের কার্যক্রমসহ সব ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু থাকবে।

গত ২৬ মার্চ থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলায় লেনদেন চালুর উদ্যোগ নিলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা লেনদেন চালুর পক্ষে থাকলেও কোরাম সংকটে কমিশন সভা না হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার নিয়ন্ত্র্রক সংস্থার নতুন চেয়্যারম্যান ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার নির্দেশিত সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধিসংক্রান্ত অফিস আদেশ প্রতিপালন সাপেক্ষে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন ও সেটলমেন্টসহ সব কর্মকাণ্ড ফের শুরু করতে অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি তুলে নিয়েছে সরকার। গতকাল এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত আকারে সরকারি অফিস খুলছে। চলবে গণপরিবহনও। ফলে সাধারণ ছুটি উঠে যাওয়ায় পুঁজিবাজারে লেনদেনও শুরু হবে রবিবার।

করোনার আঘাতে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। শিল্প-কারখানার উৎপাদন থমকে গেছে। সংকটের মুখে পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিন শতাধিক কম্পানি। কারণ উৎপাদন না থাকলে কম্পানির আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর কম্পানির আয় কমে গেলে বিনিয়োগকারীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্র জানায়, আর্থিক হিসাব বছরের সঙ্গে তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোর বড় অংশ জুন থেকে জুলাই আর্থিক হিসাব বছর মেনে চলে। আবার আর্থিক খাতের ব্যাংক ও বীমাসহ কিছু তালিকাভুক্ত কম্পানি জানুয়ারি ও ডিসেম্বর হিসাব বছর মেনে চলে। কাজেই জুলাই থেকে জুন হিসাব বছর মেনে চলা কম্পানিগুলোর আয়ে বড় প্রভাব ফেলবে করোনাভাইরাস। কারণ ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস ভালো চললেও শেষ ছয় মাসে করোনার ধাক্কা লেগেছে। এসব কম্পানির আয় কমার আশঙ্কার সঙ্গে বিনিয়োগকারীর লভ্যাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর হিসাব বছর মেনে চলা কম্পানিগুলোও করোনার ভোগান্তিতে পড়েছে। কারণ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষ হলেও অনেক কম্পানি বার্ষিক সভা করতে পারেনি। কেউ কেউ লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও অনেক কম্পাানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। এদিকে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। করোনার কারণে ব্যাংকের তারল্যপ্রবাহ বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু লভ্যাংশ ঘোষণা কমলে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীর ওপর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক রকিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস পুঁজিবাজারের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি ডেকে এনেছে। কম্পানির আর্থিক হিসাবে ক্ষতির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। করোনায় পুঁজিবাজার বন্ধ থাকলেও মার্জিন ঋণের সুদহার বন্ধ নেই। ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।’

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সংরক্ষণই আমার মূল লক্ষ্য। আমরা দায়িত্ব নিয়ে বিনিয়োগকারীর স্বার্থকে প্রাধ্যান্য দেব। বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষা করতে যা যা করা প্রয়োজন সবই করব। করোনায় পুঁজিবাজারের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা