kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

গাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হত্যা

১৭ হাজার টাকায় দুই খুনি ভাড়া করে সহকর্মী সেলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৭ হাজার টাকায় দুই খুনি ভাড়া করে সহকর্মী সেলিম

প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনকে খুন করেন তাঁরই সহকর্মী সহকারী প্রকৌশলী সেলিম। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে শাহীন ও হাবিব নামে দুই আসামির জবানবন্দিতে এ তথ্য জানা গেছে। তাঁরাও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে শাহীন ও হাবিব জানিয়েছেন, একটি মাইক্রোবাসের মধ্যে গলায় রশি পেঁচিয়ে দেলোয়ারকে খুন করা হয়। খুনের পরিকল্পনাকারী গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী সেলিমের। টাকার বিনিময়ে তাঁরা সহযোগিতা করেছেন সেলিমকে।

রাজধানীর তুরাগ থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গতকাল দুই আসামিকে রিমান্ড থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম আসামি শাহীনের ও মহানগর হাকিম শাহীনুর রহমান আসামি হাবীবের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করেন। পরে দুজনকেই কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

লাশ উদ্ধার : গত ১২ মে ভোরে প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের লাশ তুরাগ থানার বেড়িবাঁধের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। দেলোয়ার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী এলাকার দায়িত্বে ছিলেন। আগের দিন ১১ মে তিনি অফিসের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। এক দিন পর পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। পরে তুরাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি শাহীন পেশায় দিনমজুর আর হাবিব গাড়িচালক। পৃথকভাবে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে দুজনই আদালতকে জানান, গাসিকের সহকারী প্রকৌশলী সেলিম এ দুজনকে ভাড়া করেন তাঁরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেলোয়ারকে খুন করার জন্য। ঘটনার দিন সকালে হাবিবের মাইক্রোবাসে মিরপুর-২ নম্বরে আসেন সেলিম ও শাহীন। এ সময় গাড়ি দাঁড় করিয়ে সেলিম এক রিকশাচালকের কাছ থেকে জরুরি কল করার কথা বলে তাঁর মোবাইল ফোনটি চেয়ে নেন। সেলিম জানান, তাঁর নিজের মোবাইলে সমস্যা। এরপর সেলিম তাঁর ঊর্ধ্বতন দেলোয়ারকে ফোন দিয়ে বলেন তাঁর সঙ্গে গাড়ি আছে। ইচ্ছা করলে তাতে করে অফিসে যেতে পারেন দেলোয়ার। কথামতো দেলোয়ার অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে চলে আসেন। সেলিম ও দেলোয়ার চালকের পেছনের সিটে বসেন। দিনমজুর শাহীন মাইক্রোবাসের পেছনে ঘাপটি মেরে ছিলেন। এ পর্যায়ে রিকশাওয়ালাকে ১০০ টাকা ও মোবাইল ফোনসেট ফেরত দিয়ে বিদায় করেন সেলিম। পরে মোবাইল ফোনের কললিস্ট থেকে যাতে পুলিশ খুনিদের শনাক্ত করতে না পারে, সে জন্যই রিকশাওয়ালার ফোন থেকে দেলোয়ারকে কল করেন ধূর্ত সেলিম। এরপর মাইক্রোবাস যাত্রা শুরু করে দিয়াবাড়ীর দিকে যায়। ফাঁকা রাস্তায় যাওয়ার পর আচমকা পেছন থেকে শাহীন প্রকৌশলী দেলোয়ারের গলায় রশি পেঁচিয়ে ধরেন।

কেন খুন : সেলিম এ হত্যাকাণ্ডের আগে শাহীন ও হাবিবকে জানিয়েছিলেন, টাকা-পয়সা লেনদেনের জের ধরে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। দেলোয়ার তাঁর অধীনে থাকা সেলিমকে বকাঝকা করতেন। এ কারণেই তিনি বসকে খুন করার পরিকল্পনা করেন। জবানবন্দিতে এসব কথা উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, বর্তমানে রিমান্ডে থাকা সেলিম সঠিক কারণ বলতে পারবেন।

১৭ হাজার টাকায় খুনি ভাড়া : শাহীন আদালতকে জানান, দেলোয়ারকে খুন করার জন্য প্রকৌশলী সেলিম তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছেন। আর হাবিব জানান, তাঁকে দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার টাকা।

দেলোয়ারের শেষ কথা : শাহীন গলায় রশি পেঁচিয়ে ধরার আগ পর্যন্ত দেলোয়ার কিছুই বুঝতে পারেননি। তবে গলায় রশি চেপে বসতে থাকলে তিনি বারবার বলছিলেন, ‘সেলিম কাজটা ঠিক হলো না, কাজটা ঠিক হলো না।’ এতে সেলিম ক্ষিপ্ত হয়ে দেলোয়ারের বুকের ওপর পা দিয়ে চেপে ধরেন। এরপর শাহীন হ্যাঁচকা টানে হত্যা করেন তাঁকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা