kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

ভারতের সঙ্গে আরো পাঁচটি ‘পোর্ট অব কল’, দুটি রুট সংযোজন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিদ্যমান ‘প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেডের (পিআইডাব্লিউটিটি)’ নতুন করে পাঁচটি ‘পোর্ট অব কল’, দুটি ‘এক্সটেন্ডেড পোর্ট অব কল’ এবং দুটি রুট সংযোজিত হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পিআইডাব্লিউটিটির দ্বিতীয় সংযোজনী পত্র স্বাক্ষরিত হয়। দ্বিতীয় সংযোজনী পত্রে স্বাক্ষর করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী এবং বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস। এ সময় অন্যদের মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবরা ছাড়াও বিআইডাব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, বিদ্যমান কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এবং সদ্য সংযুক্ত প্রটোকল রুটের মাধ্যমে যোগাযোগ উভয় দেশের বাণিজ্য ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য অর্থনৈতিক, দ্রুত, নিরাপদ ও দূষণমুক্ত পরিবহন ব্যবস্থায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং এই অঞ্চলের পরিবেশগত সুবিধাও পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ছয়টি করে ১২টি পোর্ট অব কল রয়েছে। সেগুলো হলো বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, মোংলা, সিরাজগঞ্জ, আশুগঞ্জ ও পানগাঁও এবং ভারতের কলকাতা, হলদিয়া, করিমগঞ্জ, পাণ্ডু, শিলঘাট ও ধুবরী। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রাজশাহী, সুলতানগঞ্জ, চিলমারী, দাউদকান্দি ও বাহাদুরাবাদ এবং ভারতের ধুলিয়ান, ময়া, কোলাঘাট, সোনামুড়া ও যোগীগোফা। দুটি করে এক্সটেন্ডেড পোর্ট অব কল হলো নারায়ণগঞ্জ পোর্ট অব কলের আওতায় ঘোড়াশাল ও পানগাঁও পোর্ট অব কলের আওতায় মুক্তারপুর এবং ভারতের কলকাতা পোর্ট অব কলের আওতায় ত্রিবেণী (বেন্ডেল) ও করিমগঞ্জ পোর্ট অব কলের আওতায় বদরপুর।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান ‘অভ্যন্তরীণ নৌ ট্রানজিট ও বাণিজ্য চুক্তি’ ১৯৭২ সালে স্বাক্ষরের পর থেকে নবায়নের ভিত্তিতে অব্যাহত আছে। ওই প্রটোকলের মেয়াদ ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ উত্তীর্ণ হলে ২০১৫ সালের ৬ জুন ফের পিআইডাব্লিউটিটি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিদ্যমান আটটি নৌ রুট হলো—১. কলকাতা-হলদিয়া-রায়মঙ্গল-চালনা-খুলনা-মোংলা-কাউখালী-বরিশাল-হিজলা-চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ-পানগাঁও-আরিচা-সিরাজগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ-চিলমারী-ধুবরী-পাণ্ডু-শিলঘাট, ২. শিলঘাট-পাণ্ডু-ধুবরী-চিলমারী-বাহাদুরাবাদ-সিরাজগঞ্জ-আরিচা-নারায়ণগঞ্জ-পানগাঁও-চাঁদপুর-হিজলা-বরিশাল-কাউখালী-মোংলা-খুলনা-চালনা-রায়মঙ্গল-হলদিয়া-কলকাতা,

৩. কলকাতা-হলদিয়া-রায়মঙ্গল-মোংলা-কাউখালী-বরিশাল-হিজলা-চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ-পানগাঁও-ভৈরববাজার-আশুগঞ্জ-আজমেরীগঞ্জ-মারকুলি-শেরপুর-ফেঞ্চুগঞ্জ-জকিগঞ্জ-করিমগঞ্জ,

৪. করিমগঞ্জ-জকিগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ-শেরপুর-মারকুলি-আজমেরীগঞ্জ-আশুগঞ্জ-ভৈরববাজার-নারায়ণগঞ্জ-পানগাঁও-চাঁদপুর-হিজলা-বরিশাল-কাউখালী-মোংলা-রায়মঙ্গল-হলদিয়া-কলকাতা, ৫. রাজশাহী-গোদাগাড়ী-ধুলিয়ান, ৬. ধুলিয়ান-গোদাগাড়ী-রাজশাহী, ৭. করিমগঞ্জ-জকিগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ-শেরপুর-মারকুলি-আজমেরীগঞ্জ-আশুগঞ্জ-ভৈরববাজার-নারায়ণগঞ্জ-পানগাঁও-চাঁদপুর-আরিচা-সিরাজগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ-চিলমারী-ধুবরী-পাণ্ডু-শিলঘাট, ৮. শিলঘাট-পাণ্ডু-ধুবরী-চিলমারী-বাহাদুরাবাদ-সিরাজগঞ্জ-আরিচা-চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ-পানগাঁও-ভৈরববাজার-আশুগঞ্জ-আজমেরীগঞ্জ-মারকুলি-শেরপুর-ফেঞ্চুগঞ্জ-জকিগঞ্জ-করিমগঞ্জ। এগুলোর সঙ্গে নতুন দুটি রুট দাউদকান্দি-সোনামুড়া ও সোনামুড়া-দাউদকান্দি এবং পাঁচটি করে ১০টি পোর্ট অব কল যুক্ত হবে।

ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, নতুন পোর্ট অব কল হিসেবে যোগীগোফা (ভারত) এবং বাহাদুরাবাদের (বাংলাদেশ) অন্তর্ভুক্তি মেঘালয়, আসাম ও ভুটানকে সংযুক্ত করবে। যোগীগোফাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ সেখানে একটি মাল্টিমোডাল লজিস্টিক পার্ক স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। নতুন পোর্ট অব কলগুলো ইন্দো-বাংলাদেশ প্রটোকল রুটে পরিবহন করা কার্গো লোডিং এবং আনলোডিং করতে সক্ষম হবে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে গতি সঞ্চার করবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা