kalerkantho

বুধবার । ২৪ আষাঢ় ১৪২৭। ৮ জুলাই ২০২০। ১৬ জিলকদ  ১৪৪১

পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে অব্যবস্থাপনা

সড়কে রাত কাটালেন বাংলাদেশি যাত্রীরা

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

২১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সড়কে রাত কাটালেন বাংলাদেশি যাত্রীরা

ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের নানা অব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের রোদ, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গত দুই দিন ইমিগ্রেশন এলাকার রাস্তায় দীর্ঘ লাইনে রাত কাটাতে হয়েছে। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে ভারত সহস্রাধিক যাত্রীকে একসঙ্গে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় এসব যাত্রীদের বেনাপোল ইমিগ্রেশনে শারীরিক পরীক্ষা শেষ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে দেশের মাটিতে পা রেখেও বাড়ি ফিরতে পারেননি অনেকে।

এদিকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারত থেকে ফেরা যাত্রীদের ছাড়পত্র দিতে তারা রাত জেগে কাজ করেছে।

গতকাল বুধবার সকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আটকে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারণে ভারতে লকডাউনে আটকা পড়েন বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণের জন্য যাওয়া কয়েক হাজার বাংলাদেশি। ইচ্ছা থাকলেও লকডাউনে কড়াকড়ির কারণে তাঁরা এত দিন ফিরতে পারেননি। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে চলে আসায় তাঁরা দূর-দূরান্ত থেকে যানবাহনে আবার কেউ হেঁটে পেট্রাপোল চেকপোস্টে আসেন। কিন্তু ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনের কাজের ধীরগতি ও নানা টালবাহানায় এসব যাত্রী দুই দিন ধরে খেয়ে না খেয়ে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাস্তার ওপর রাত কাটাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সব যাত্রীকে একসঙ্গে ছেড়ে দেয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। এতে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ না হওয়ায় তাঁরা আটকা পড়েন।

ভারতফেরত শেফালী ও জয়ন্তী রানী জানান, দুই দিন পর বাংলাদেশে আসতে পারলেও বাড়ি ফিরতে পারছেন না তাঁরা। ইচ্ছা করেই ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁদের দাঁড় করিয়ে রাখে। এ সময় তাঁরা না খেয়ে রাস্তায় রাত কাটালেও কেউ তাঁদের খবর নেয়নি।

খলিলুর রহমান নামের ঢাকার এক যাত্রী বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য ভারত গিয়ে লকডাউনে পরিবার নিয়ে আটকে পড়ি। অনেক কষ্টে ভারতের পেট্রাপোলে এসে দুই দিন আটকে ছিলাম। পেট্রাপোলের ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের কাছে অসহায়ত্বের কথা জানালেও তাঁরা কোনো কথা কানে নেননি। এ সময় পরিবার নিয়ে রাস্তায় ছিলাম। ওখানে কোনো দোকান বা হোটেলও নেই খাওয়ার। ফলে সঙ্গে যা ছিল তাই দিয়ে কোনো রকম খেয়েছি।’

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল কর্মকর্তা সুভাশিস বলেন, ‘ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এসব যাত্রীকে একসঙ্গে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ায় ভিড় বেড়ে নানা অসুবিধা হচ্ছে। এত যাত্রীর চাপ, কোনোভাবেই তাঁদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ শেষ করতে রাত জেগে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন।’

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি আহসান হাবিব বলেন, ‘ফেরত আসা যাত্রীরা আপাতত ইমিগ্রেশন ভবনে অপেক্ষা করছেন। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে তাঁদের শারীরিক পরীক্ষার কাজ চলছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত প্রায় এক হাজার বাংলাদেশি যাত্রীর পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করা হয়েছে। বাকিদের কাজ চলছে। তবে যাঁদের কাজ শেষ হয়েছে, লকডাউনের কারণে যানবাহন বন্ধ থাকায়, তাঁরা ঘরে ফিরতে পারছেন না।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা