kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

জয়পুরহাটে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত

আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র ছাড়াই সুস্থ ৩৪.৫% করোনা রোগী

রোগীদের উজ্জীবিত রাখতে ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা

তৈমুর ফারুক তুষার, ঢাকা ও আলমগীর চৌধুরী, জয়পুরহাট   

১৮ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলায় নানা অব্যবস্থাপনা আর হতাশার চিত্র উঠে আসছে। তবে এর মাঝেও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত গড়েছে জয়পুরহাট জেলা। তারা দেখিয়েছে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন আন্তরিক হলে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। সারা দেশে যখন গড়ে মাত্র ১৯.৩৫ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়েছে তখন জয়পুরহাটে এই হার ৩৪.৫ শতাংশ। কোনো ভেন্টিলেশন, আইসিইউ বা আধুনিক যন্ত্রপাতি সংবলিত চিকিৎসাকেন্দ্র ছাড়াই জেলাটিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এমন ভালো ফল এসেছে।

গত শনিবার জয়পুরহাট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাত্র পাঁচ উপজেলা নিয়ে গঠিত জয়পুরহাট জেলায় গত ১৩ মে পর্যন্ত তিন হাজার ৬৮৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার ১৪৬টি নমুনা দেশের বিভিন্ন পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষায় ৮৬ জন করোনা পজিটিভ হয়েছে। এর মধ্যে দুজন জয়পুরহাট ছেড়ে গেছে। বাকি ৮৪ জনকে আইসোলেশন সেন্টারে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুই শিশুসহ ২৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। অর্থাৎ জয়পুরহাটে সুস্থ হয়ে ওঠার হার ৩৪.৫ শতাংশ। এদিকে শনিবার (১৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৯৯৫ জন আর সুস্থ হয়েছে চার হাজার ১১৭ জন। অর্থাৎ দেশে ১৯.৬০ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়েছে।

জয়পুরহাটে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা জেলা আধুনিক হাসপাতাল বা চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হচ্ছে না। মানসম্মত পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে জেলা শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নবনির্মিত ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি ক্যাম্পাসে স্থাপিত একটি আইসোলেশন সেন্টারে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ভীতি কাটাতে আইসোলেশন সেন্টারটির নাম দেওয়া হয়েছে নিরাপদ অতিথিশালা। এখানে কোনো আইসিইউ, ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা নেই। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রশাসন ও সমাজসেবীদের যৌথ উদ্যোগে এ সেন্টারটি পরিচালিত হচ্ছে। জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহ্মুদ স্বপন আইসোলেশন সেন্টারটির নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীরা আইসোলেশন সেন্টার তথা নিরাপদ অতিথিশালার চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্ট। জয়পুরহাটে শনাক্ত প্রথম কভিড-১৯ রোগী কালাই উপজেলার জিন্দারপুর গ্রামের ওবায়দুল হোসেন বলেন, ‘গত ১৬ এপ্রিল খবর পাই আমার নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ হয়েছে। খবর শুনেই ভয় পেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল আমি বোধ হয় আর বাঁচব না। আইসোলেশনে নিতে রাতেই আসে স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু আমি ভয়ে লুকিয়ে ছিলাম। পরের দিন আমাকে গোপীনাথপুর নিরাপদ অতিথিশালায় নেওয়া হয়। দীর্ঘ ২৩ দিন সেখানে ছিলাম। এখানকার পরিবেশ খুবই ভালো।’ জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন সেলিম মিঞা বলেন, ‘করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় আমরা মানসম্মত একটি পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেওয়া ও মানসিকভাবে উজ্জীবিত রাখার চেষ্টা করছি। স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া নির্দেশনা অনুসারে গরম পানি পান ও ভাপ নেওয়া, লবণ পানি দিয়ে গড়গড়া (গার্গল) করার ব্যবস্থা রেখেছি।’

জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহ্মুদ স্বপন বলেন, ‘আমরা সকলে সমন্বিতভাবে করোনা মহামারি দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করছি। সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। দেশের অন্য হাসপাতালগুলোতে কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় কী ধরনের অসুবিধা বা ঘাটতি দেখা দিচ্ছে তা জানার চেষ্টা করি। সেগুলো যেন আমাদের এখানে না হয় সেদিকে সচেষ্ট থাকি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা