kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

করোনার চেয়ে বেশি মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার চেয়ে বেশি মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনায়

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সড়কে মৃত্যু থেমে নেই। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। গত ২৬ মার্চ থেকে গত বুধবার পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৩২৫ জন। আর এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ২৮৩ জন।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে দূরপাল্লার যানসহ গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। তবে পণ্য পরিবহনসহ জরুরি সেবায় ব্যবহৃত গাড়ি চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অঘোষিত লকডাউনে মানুষ মূলত ঘরবন্দি থাকলেও সড়কে মৃত্যু থামেনি। বেপরোয়া ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান কিংবা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। মৃত্যুর দিক থেকে করোনার চেয়ে সড়কই এগিয়ে। মানুষের সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মত দেন তাঁরা।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যানুযায়ী, এপ্রিল মাসে ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১১ জন প্রাণ হারিয়েছে, আহত হয় ২২৭ জন। এই সময়ে নৌপথে আটটি দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হয়। আহত হয়েছে দুজন, নিখোঁজ রয়েছে আরো দুজন। চলতি মে মাসের প্রথম ১০ দিনে ৭৬টি দুর্ঘটনায় ৭৫ জন নিহত হয়েছে। তবে যাত্রীকল্যাণ সমিতির দেওয়া তথ্যের সঙ্গে গণমাধ্যমের তথ্য মিলিয়ে ১ মে থেকে গত বুধবার পর্যন্ত ৯২ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর সাধারণ ছুুটির শুরুর দিন ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত সড়কে প্রাণ গেছে ২২ জনের।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাধারণ ছুটি বা লকডাউন কোনোকিছুই সড়ক দুর্ঘটনা ও সড়কে মৃত্যু থামাতে পারছে না। গত ২৬ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী পরিবহন চলাচল বন্ধ। তবু সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। করোনা নিয়ে আমরা সবাই আতঙ্কিত, কিন্তু সড়কে মৃত্যুর পরিমাণ অনেক বেশি।’

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার করোনায় ১৪ জন মারা গেছে। সব মিলিয়ে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৩ জনে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মার্চ মাসে মারা যায় ছয়জন। এপ্রিলে মারা যায় ১৬২ জন। অথচ এপ্রিলে সড়কে প্রাণ গেছে দু শর বেশি মানুষের।

২৪ ঘণ্টায় নিহত ৬

সড়ক দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইলের সখীপুর, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, ময়মনসিংহের ভালুকা, নেত্রকোনার পূর্বধলা ও  চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ছয়জন নিহত হয়েছে। প্রতিনিধিদের খবর :

সখীপুর : কাভার্ড ভ্যানের চাপায় নিহত মোটরসাইকেলচালক সাব্বির হোসেন (২৫) মির্জাপুর উপজেলার দড়ানীপাড়া গ্রামের আবদুর রউফ মিয়ার ছেলে। গতকাল সকালে সখীপুর-ঢাকা সড়কের নলুয়া বাজারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

রূপগঞ্জ : গত বুধবার রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আউখাবো এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক অচেনা মানসিক ভারসাম্যহীন নারী মারা যান।

ভালুকা : উপজেলার ভরাডোবা বাসস্ট্যান্ডের কাছে পিকআপের ধাক্কায় ইজি বাইকে থাকা ধানকাটা শ্রমিক রফিকুল ইসলাম (৪০) নিহত হন। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আবদুল মোতালেব হোসেনের ছেলে।

পূর্বধলা : নিহতরা হলেন উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের মহেষপট্টি গ্রামের মৃত আ. রাজ্জাকের ছেলে আমিনুল ইসলাম (৪৫) ও আগিয়া ইউনিয়নের কালডোয়ার গ্রামের হেলাল উদ্দিন (৩৫)। গতকাল দুপুরে হোগলা-পূর্বধলা সড়কের আগিয়া এলাকায়  মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারালে এ ঘটনা ঘটে। 

সীতাকুণ্ড : গতকাল দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরায় ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হন মোটরসাইকেলচালক মো. সালাউদ্দিন (২৮)।  তিনি উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের মধ্যম আকিলপুর গ্রামের ছাদেক উল্লার ছেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা