kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ আষাঢ় ১৪২৭। ২ জুলাই ২০২০। ১০ জিলকদ  ১৪৪১

সড়কে বাড়ছে মানুষের চলাফেরা

ওমর ফারুক ও জহিরুল ইসলাম   

১০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সড়কে বাড়ছে মানুষের চলাফেরা

করোনায় বদলে গেছে মানুষের জীবনছবি। চলাফেরায় এসেছে পরিবর্তন। দীর্ঘ দেড় মাস ঘরবন্দি মানুষ যেন হাঁপিয়ে উঠেছে। এখন রাস্তায় নামতে শুরু করেছে তারা। সবশেষ আজ রবিবার থেকে শপিং মল খুলে দেওয়ার ঘোষণায় স্তিমিত নাগরিক জীবনে কিছুটা গতি এসেছে। প্রতিদিনই রাস্তা ও বাজারে বাড়ছে মানুষের উপস্থিতি। তবে এখন আর মাস্ক পরার ব্যাপারে কাউকে বলতে হচ্ছে না। সচেতনতার কথা মাথায় রেখে বেশির ভাগ মানুষ নিজেরাই মাস্ক পরছে। আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের কড়াকড়িও কমেছে অনেকটা।

কয়েক দিন আগেও দেখা গেছে, বিভিন্ন অলিগলিতে লোকজন চলাফেরা করছে, অথচ তাদের বেশির ভাগের মুখেই মাস্ক নেই। কিন্তু গতকাল শনিবার রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্যামবাজার, গেণ্ডারিয়া, সূত্রাপুর, পোস্তগোলা, আজিমপুর, লালবাগ এলাকা ঘুরে বেশির ভাগ লোকের মুখে মাস্ক দেখা গেছে। এমনকি দোকানের ভেতরেও দোকানিদের মাস্ক পরে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

আইজি গেট এলাকায় দেখা যায়, মুদি দোকান ও ওষুধের দোকান খোলা রয়েছে। লেপ-তোষক, ফার্নিচারের দোকান খোলা দেখা যায়নি। পোস্তগোলা থেকে লোহারপুলের দিকে যাওয়া রাস্তায় অনেক রিকশা চলতে দেখা যায়। যেটা প্রায় স্বাভাবিক সময়ের মতো। তবে রিকশাচালক ও যাত্রীদের দেখা গেছে মাস্ক পরতে। ওই এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক জসিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, পেটের দায়ে রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন। কিন্তু করোনার জন্য তিনি বেশ ভয় পাচ্ছেন। ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন জীবন-মরণ। তবে বাঁচার জন্য মুখে মাস্ক পরে রিকশা চালাচ্ছেন। তবে মুখে মাস্ক পরে রিকশা চালানো বেশ কষ্টকর। রিকশা চালানোর সময় প্রচুর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হয়। মাস্কের কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এ কারণে বেশি কষ্ট হলে মাস্ক মুখ থেকে সরিয়ে নাক ও মুখ দিয়ে শ্বাস নেন।

গেণ্ডারিয়ার ঢালকানগর এলাকার মুদি দোকানি আবদুল হাকিমকে মুখে মাস্ক পরে দোকানে বসে থাকতে দেখা যায়। তিনি জানান, আগে দোকান খুললে পুলিশ এসে বন্ধ করে দিত। এখন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা যায়। তবে ক্রেতা আগের চেয়ে কমে গেছে।

মুদি দোকানে আসা ক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, ‘১০ তারিখ থেকে সরকার শপিং মলসহ দোকানপাট খুলে দেওয়ার কথা বললেও মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে কম। সরকারের ঘোষণার পর ভাবছিলাম প্রচুর মানুষ রাস্তায় বের হয়ে যাবে। আজ ৯ তারিখে সেটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মানুষের মধ্যে ভয় ঢুকেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছে না। সরকার খুলে দিলেও খুব বেশি লোক রাস্তায় বের হবে সেটা মনে হয় না।’

ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে শ্যামবাজার এলাকায়। বাজারে দেখা গেছে অনেক মানুষের সমাগম। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে শ্যামবাজারে। সেখানে পাইকারি বিক্রেতাদের পাশপাশি রাস্তায় অনেকে তরিতরকারির দোকান নিয়ে বসেছেন।  অবশ্য এখানেও মুখে মাস্ক পরতে দেখা গেছে বেশির ভাগ মানুষকে।

পুরান ঢাকার লালবাগ আজিমপুর এলাকার ছাপড়া মসজিদ ও আশপাশের অলিগলির বাজার এবং স্থানীয় দোকানে মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। আবার অনেকেই দীর্ঘদিন বাসায় থেকে কিছুটা স্বস্তির জন্য বের হয়েছে এমনটাও বলছে। সাব্বির আহমেদ নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, ‘এক মাসের বেশি সময় ধরে বাসায় আটকা। আর ভালো লাগে না। মনে হয় অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। তাই একটু বাইরে বের হলাম।’

তবে রাজধানীর আজিমপুর, নীলক্ষেত মোড়, কাঁটাবন সিগন্যাল, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার মোড়, মহাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আগের মতো দেখা যায়নি। লালবাগ ও আজিমপুর এলাকায় পুলিশের তৎপরতা নিয়ে লালবাগ থানার ওসি কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা নিজেরা সচেতন থেকে মানুষকে সচেতন করার কাজটি চালিয়ে যাচ্ছি। তৎপরতা কিছুটা কম দেখা গেলেও গত এক মাসের বেশি সময়ে মানুষকে মাস্কসহ সচেতনভাবে চলার বিষয়টি পুশ করা গেছে। এখন বেশির ভাগ মানুষই মাস্ক ছাড়া বের হচ্ছে না।’

মন্তব্য