kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

ঝুঁকির মধ্যেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিচ্ছেন তাঁরা

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৬ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে যখন দুশ্চিন্তায় তখনই হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) সংকটের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের ১২৬টি ওয়ার্ডে এবং বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারী ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরা।

নবীগঞ্জে গত চার দিনে স্বাস্থ্যকর্মীসহ আটজন (এর মধ্যে শনিবার ছয়জন) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন আতঙ্ক বেড়েছে, তেমনি চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারী ও সিএইচসিপিরা উদ্বিগ্ন। কারণ স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামগুলোতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জফেরত মানুষের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত ও করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত করার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য ও নমুনা সংগ্রহ এবং চিকিৎসার কাজ করছেন। কিন্তু রোগীদের চিকিৎসাসেবায় মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত এই স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে রয়েছেন অরক্ষিত। অপ্রতুল সুরক্ষা সরঞ্জাম দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। লক্ষণ বা উপসর্গ ছাড়া অনেক করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ায় ভীতি বাড়ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং করোনাভাইরাস রোধে জীবাণুনাশক উপকরণ, মাস্ক ব্যবহারসহ সচেতনতামূলক পরামর্শও দিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। চার দিনে উপজেলা থেকে ১৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বিভিন্ন ইউনিয়নের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী ও সিএইচসিপিরা বাড়িতে এসে সব পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁরা যেভাবে কাজ করছেন তাতে গ্রামের মানুষেরা খুবই উপকৃত হচ্ছে।

মান্দারকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি জয়ন্ত চক্রবর্ত্তী বলেন, হাসপাতালে না গিয়ে রোগীরা এখন কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ছুটছে। সুরক্ষা পোশাক না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক দীপংকর ভট্টাচার্য দেবুল বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীরা গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে করোনাভাইরাস সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা শত প্রতিকূল পরিবেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করছে।’ স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেসিডেন্ট মেডিক্যাল অফিসার চম্পক কিশোর সাহা জানান, উপজেলায় পাঁচটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩৯ জন স্বাস্থ্যকর্মী ৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ৩৮ জন সিএইচসিপির মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে করোনাভাইরাস সচেতনতায় কাজ করে যাচ্ছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা