kalerkantho

সোমবার । ২৯ আষাঢ় ১৪২৭। ১৩ জুলাই ২০২০। ২১ জিলকদ ১৪৪১

করোনায় আক্রান্ত সাংবাদিকের বোনের ঘরে তালা!

পুলিশের উপস্থিতিতে সমাধান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক সাংবাদিকের বোনের ভাড়া বাসায় তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিপদে পড়ে বোনের বাসায় মা, ভাই ও বোনকে পাঠানো হলেও সেখানে তাঁদের ঢুকতে দেননি ওই বাসার মালিক। দরজার বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন বাড়ির মালিক। আর বাড়িটির মূল গেটে তালা দেয় এলাকার মানুষজন। গতকাল রবিবার রাজারবাগের বাগপাড়ার দরবার গলিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে বাসার তালা খুলে দেওয়া হয়।

জানা যায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি একটি বেসরকারি এফএম রেডিও স্টেশনের রিপোর্টার। গত শনিবার তাঁর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ২৭ এপ্রিল পরীক্ষার জন্য তিনি মুগদা হাসপাতালে নমুনা দিয়ে আসেন। করোনা পজিটিভ আসার পর থেকেই বাড়ির মালিক ও মহল্লার বাসিন্দারা বিভিন্ন ঝামেলা করছিল বলে অভিযোগ সাংবাদিকের। তিনি বলেন, ‘অফিসে থাকতেই আমি করোনা উপসর্গ টের পাই। মুগদা হাসপাতালে স্যাম্পল দিয়ে টেস্ট করাই। কিন্তু তারা কোনো রিপোর্ট জানায়নি। যে কারণে অফিসেই ছিলাম। পরে শনিবার আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়, আমি করোনায় আক্রান্ত। বিষয়টি জানার পর গতকাল বাসায় ফিরে আলাদা রুমে থাকা শুরু করি। কিন্তু ওয়াশরুম একটা। সেটা ব্যবহার করে স্প্রে করছিলাম; কিন্তু দুশ্চিন্তা যাচ্ছিল না।’

ওই সাংবাদিক বলেন, ‘একই গলিতে পাশেই আরেকটি বাসায় আমার বোন-দুলাভাই থাকেন। তাঁরা লকডাউনে বাড়ি যাওয়াতে, বাসাটি খালি। দুশ্চিন্তার কারণে সবার সুরক্ষার জন্য তাঁদের বাসায় মা, বোন ও ভাইকে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আমার করোনা আক্রান্তের খবরে ওই বাসায় থাকতে দিচ্ছে না বাসার মালিক ও স্থানীয়রা। গলির মানুষ আমাদের (বোনের) বাসার মূল গেটে তালা মেরে দেয়। আর বাড়ির মানুষ ঘরের বাইরে থেকে তালা মেরে দেয়।’

এ সম্পর্কে সবুজবাগ থানার ওসি মো. মাহবুব আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়া মাত্র ওই ঠিকানায় পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়। আসলে শনিবার ওই সাংবাদিকের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বন্ধুদের জানাতে থাকেন এবং নিজেও নাকি স্বাভাবিক জীবন যাপন এবং চলাফেরা করছিলেন।’

ওসি বলেন, ‘তিনি মাকে নিয়ে তাঁর বাসায় এক রুমে থাকেন বলে জানতে পেরেছি। পজিটিভ হওয়ার পর পাশেই তাঁর বোনের বাসায় রাখতে গেলে এলাকাবাসী ঢুকতে দেয়নি। সব মিলিয়ে একটা ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে আমরা গিয়ে বাড়িওয়ালাকে বলে সব সমাধান করা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা