kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

টিসিবির রোজার পণ্য বিক্রি

খেজুর, ছোলা ও পেঁয়াজ আগামী সপ্তাহ থেকে

বিক্রির সময়সূচি ঠিক হলেও পণ্যের দাম এখনো নির্ধারণ হয়নি

রোকন মাহমুদ   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খেজুর, ছোলা ও পেঁয়াজ আগামী সপ্তাহ থেকে

স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী দামের টিসিবির পণ্যই ভরসা। ছবিটি গতকাল বাড্ডা এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রমজান আসতে বাকি আরো প্রায় দুই সপ্তাহ। এরই মধ্যে রোজায় বিক্রির জন্য আরো তিন পণ্যের সংগ্রহ শেষ করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এগুলো হলো—খেজুর, ছোলা ও পেঁয়াজ। টিসিবি জানিয়েছে, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকেই এগুলো বাজারে আসবে। তবে দাম এখনো নির্ধারণ হয়নি। এপ্রিলের প্রথম দিন থেকেই রোজার পণ্য বিক্রি শুরু করে সরকারি এই প্রতিষ্ঠান। বুধবারও রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট সংলগ্ন বাজার, ধলপুর কমিউনিটি সেন্টার, মতিঝিল, বাড্ডাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ডিলারের নির্ধারিত ট্রাকে পণ্য বিক্রি করে তারা। ট্রাকগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছে, যতক্ষণ মজুদ থাকবে, পণ্য দেওয়া হবে। সময়ের ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। তবে শুক্রবার বিক্রি বন্ধ থাকবে।

ভোগ্যপণ্যের সরকারি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানটি এখন রোজার পণ্য হিসেবে চিনি, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল বিক্রি করছে। এর আগে তাঁরা জানিয়েছিল, ছোলা ও খেজুর ১০ তারিখের পর বিক্রি শুরু হবে। এ ছাড়া প্রয়োজন মনে করলে পেঁয়াজও বিক্রি করা হবে।

জানতে চাইলে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে রোজার আরো তিনটি পণ্য সংগ্রহ শেষ করেছি। এর মধ্যে ৫০০ মেট্রিক টন খেজুর স্থানীয় বাজার থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া আট হাজার মেট্রিক টন ছোলা ও পাঁচ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়া হয়েছে। ছোলা কিছু আমদানি করা হয়েছে, কিছু স্থানীয় বাজার থেকে নেওয়া হয়েছে। আর পেঁয়াজের পুরোটাই আমদানি করা হবে। এই উৎপাদন মৌসুমেও পেঁয়াজ আমদানি কেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজের এলসি আগেই খোলা হয়েছিল। সেগুলো এখন নিতে হবে।’ তিন পণ্যের দাম ঠিক করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এগুলোর বাজার পর্যবেক্ষণ চলছে। বাজার দামের ওপর নির্ভর করে দাম ঠিক করবে কমিটি।’

টিসিবি বর্তমানে ঢাকায় ৫০টি, চট্টগ্রামে ১৬টি, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ১০টি ও জেলা সদরে চারটি করে মোট ৩৫০টি স্পটে ট্রাকে করে চিনি, ডাল ও তেল বিক্রি করছে। তিন পণ্যের মধ্যে চিনি ৫০ টাকা, মসুর ডাল ৫০ টাকা ও সয়াবিন তেল ৮০ টাকা লিটার দরে হচ্ছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে এখন খেজুর ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, ছোলা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে টিসিবি সব সময় বাজারমূল্যের চেয়ে কমেই পণ্য বিক্রি করে থাকে।

এদিকে অন্য দিনের মতো বুধবারও রাজধানীতে টিসিবির ৫০টি পণ্য বিক্রির স্পটে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। বিক্রেতারা জানান, আগামীকাল শবেবরাত উপলক্ষে এদিন অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশিই ভিড় ছিল। এ ছাড়া দুপুর ২টার পর সবার ঘরে ফেরার বাধ্যবাধকতা থাকায় সকাল থেকেই ভিড় ছিল। মাঝখানে কোথাও কোথাও বৃষ্টির কারণে বিক্রিতে সাময়িক বিরতি ঘটলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী ছিল না। কথা হয় ধলপুর কমিউনিটি সেন্টার স্পটে ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে আসা গোপীবাগের শাহাদাতের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাজারে তেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। ডালের দামও চড়া। তাই কম দামে পণ্য কিনতে এলাম। পণ্যের মানও ভালো।’ তিনি আরো জানান, আগে লাইনে দাঁড়ালে গায়ে গায়ে লেগে থাকত মানুষ। এখন পরিবেশ ভালো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা