kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

লকডাউনেও প্রাণ ঝরছে সড়কে

পার্থ সারথি দাস   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লকডাউনেও প্রাণ ঝরছে সড়কে

কার্যত লকডাউন বা অচলাবস্থায় দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি নেমেছে প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগে। সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার পরবর্তী ১৪ দিনের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য মিলেছে। সড়কে বহুমাত্রিক সংঘর্ষ হচ্ছে না। যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ অন্য সময়ের মতো ব্যাপক হারে হচ্ছে না। তবে একক গাড়ির ত্রুটি এবং চালকের গতিসীমা না মানায় এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ লকডাউন পরিস্থিতিতে সড়কে দুর্ঘটনা হওয়ার বড় উপাদান নেই। 

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, স্বাভাবিক সময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে দিনে গড়ে ১৮ জনের। প্রায় একই আবহাওয়ায় গত ২৬ মার্চ থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১৪ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে কমপক্ষে ৩৫ জনের অর্থাৎ দিনে গড়ে প্রায় তিনজনের। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব মতে, গত জানুয়ারিতে দিনে গড়ে ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ‘লকডাউনে’ সড়কে প্রাণহানি কমেছে। অথচ কোনো দুর্ঘটনা ঘটার মতো অনুষঙ্গ ছিল না এ সময়ে।

এ বিষয়ে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. সামছুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, সড়কে ব্যবহারকারী কমেছে। ফলে কোনো দুর্ঘটনা হওয়ার কথাই নয়। এসব দুর্ঘটনা ঘটছে গতিসীমা না মানায়। ফাঁকা সড়কে গাড়ি অতিগতিতে চালানোয় ত্রুটি ধরা পড়ছে এবং দুর্ঘটনা ঘটছে। তার মধ্যে মোটরসাইকেল চালনায় গতিসীমা না মানার প্রবণতা বেশি।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, কার্যত লকডাউনেও সড়কে এত দুর্ঘটনার বড় কারণ গতিসীমা না মানা।

গত ২৬ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ট্রাক ও মোটরসাইকেলে। বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকে ট্রাকে চলাচল করছে নিষেধ অমান্য করে। জরুরি দরকারে বা অজুহাত তৈরি করে অনেকে মোটরসাইকেল নিয়ে মহাসড়কে নামছে। গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, আব্দুল্লাহপুর, গাবতলীসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে কড়াকড়ির মধ্যেও যানবাহন ঢোকে।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি ঘোষণার পর সারা দেশে চলছে সাধারণ ছুটি। করোনায় আক্রান্ত ও প্রাণহানির হার বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছায় নিজ নিজ এলাকার সব পথ বন্ধ ঘোষণা করছে। রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে জরুরি সেবা ছাড়া অন্যান্য যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তার পরও জরুরি সেবা ছাড়াও অনেকের স্বেচ্ছায় ঘোরাঘুরিতে যান চলাচল একেবারে বন্ধ হয়নি। ফাঁকা সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলচালকরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রাজধানীর ফাঁকা সড়কে তাদের গাড়ির গতিবেগ উঠছে ১০০ কিলোমিটারে।

দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮ সালের তথ্য মতে, ওই বছর দিনে প্রাণহানি ঘটে ১১ জনের। ২০১৭ সালে তা ছিল ১০ জন। পরের বছরগুলোতে তা আবার বেড়ে যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা